ঢাকা

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬: এক বেঞ্চে কতজন, কখন প্রশ্ন খুলবেন—জেনে নিন নির্দেশনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রসচিব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

নির্দেশনায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, বিতরণ ও পরিবহন, পরীক্ষার্থীদের আসন ব্যবস্থা, ক্যালকুলেটর ব্যবহার, মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, সিসিটিভি স্থাপন, শৌচাগার তল্লাশি এবং পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়। চিঠিটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সব কেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। পরীক্ষাগুলো সকাল ১০টা ও দুপুর ২টা—দুই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়মিত (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) পরীক্ষার্থীরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে অংশ নেবেন।

অন্যদিকে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ ও এর আগের) ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবেন।

প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় কঠোর নির্দেশনা

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

এই যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিত থাকতে হবে।

প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশের সেটগুলো পরীক্ষার তারিখ অনুযায়ী আলাদা করে নিরাপত্তা খামে সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্রের খামে পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। কোনো ধরনের ভুল বা অবহেলা হলে এর দায় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিতে হবে।

নির্ধারিত সেট ছাড়া অন্য প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না

পরীক্ষার দিন ট্রেজারি কর্মকর্তা থেকে নির্ধারিত দিনের প্রশ্নপত্র গ্রহণ করতে হবে। এরপর ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে নিরাপদে তা কেন্দ্রে নিতে হবে।

মোবাইল ফোনে সেট কোড পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তাকে তা দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে।

বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে নিষেধাজ্ঞা

পরীক্ষাকেন্দ্রে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রত্যবেক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বেঞ্চ অনুযায়ী আসন ব্যবস্থা

পরীক্ষার্থীদের আসন ব্যবস্থাপনা নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থীর আসন ব্যবস্থা করতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই এর ব্যতিক্রম করা যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে কমপক্ষে দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক থাকতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময়

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এর পর কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে এলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশেষ বিবেচনায় রোল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে ওই রেজিস্টার শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

ক্যালকুলেটর ও ঘড়ি ব্যবহারে বিধিনিষেধ

শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলার ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলার পরীক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন না।

এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত খড়ি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের ঘড়ি পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও পাঠানোর নিয়ম

নির্দেশনায় উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনায়ও বেশ কিছু নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে না।
পুরোনো ও নতুন সিলেবাসের উত্তরপত্র আলাদা রাখতে হবে।
প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে।
ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে প্যাকেট করতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে ‘বিশেষ পরীক্ষার্থী’ উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।

প্রতি ৫০টি উত্তরপত্র করে করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে। নতুন ও পুরোনো সিলেবাসের উত্তরপত্র কোনোভাবেই একসঙ্গে রাখা যাবে না।

উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো অতিরিক্ত চিহ্ন বা লেখা থাকলে তার দায় কেন্দ্রসচিবকে নিতে হবে।

শৌচাগার তল্লাশি ও নকল প্রতিরোধ

নকল প্রতিরোধে পরীক্ষার শুরুর পরপরই কেন্দ্রের শৌচাগারগুলো তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা অপসারণ করতে হবে।

এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রবেশপথে শিক্ষা বোর্ড থেকে দেওয়া নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।

পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কারও জটলা যাতে না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সিসিটিভি বাধ্যতামূলক

সব পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড ও আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রবেশপত্র ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সতর্কতা

পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা গ্রহণের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। এ ধরনের জটিলতার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

পরীক্ষা চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে। তবে পরীক্ষার দিন না থাকলে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।

উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশ ও ডাক বিভাগের সহায়তা

প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।

যেসব কেন্দ্র থেকে রেলপথে উত্তরপত্র পাঠানো হয়, সেসব কেন্দ্রকে প্রতিদিনের উত্তরপত্র প্রতিদিনই রেলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। রেলযোগে পাঠানো সম্ভব না হলে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রসচিবদের দায়িত্বে সতর্কতা

শিক্ষা বোর্ডের ৩৫ দফা নির্দেশনায় মূলত প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নকল প্রতিরোধে কেন্দ্রসচিব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য বা দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স