ঢাকা

প্রাথমিকে সংগীত ও নৃত্য যুক্ত করার সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ, বিক্ষোভে নামছে খেলাফত মজলিস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলা চালুর সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন ঢাকায় এবং ১৯ জুন দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠক থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা

বৈঠকে বক্তারা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এই ধরনের বিষয় প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক করা হলে তা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, চরিত্রগঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক উপাদান যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি তোলেন।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য

বক্তব্যে মামুনুল হক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশ এখন গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।

তার ভাষায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ব্যাংক খাতের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ, ইসলামি মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য এবং গণ-আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।”

বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গেও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধানে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

তিনি দাবি করেন, প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিযুক্ত এই বাজেট ভবিষ্যতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও করের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সামাজিক ও নৈতিক ইস্যুতে অবস্থান

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মদ উৎপাদন, বিপণন ও লাইসেন্স প্রদান গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে জুয়া ও অনৈতিক কার্যক্রমের প্রসার সামাজিক অবক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে।

তিনি সরকারকে এসব কার্যক্রম বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নেতৃত্বের বক্তব্য ও উপস্থিতি

বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবদুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমানসহ আরও অনেকে।

সভা পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

বক্তারা বলেন, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে তুলে ধরবেন এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স