ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় জনপ্রিয় কোচিং সেন্টার “খান গ্লোবাল স্টাডিজ”-এ হামলার ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রিন্স যাদবের নেপালে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব নেপালের বিরাটনগরের একটি হোটেলে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ।
ঘটনাটি ঘিরে বিহার ও নেপাল—দুই দেশেই নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় প্রিন্স যাদবকে
নেপাল পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স যাদব গত শনিবার বিরাটনগরের একটি হোটেলে ওঠেন। পরদিন রোববার হোটেল কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধুকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে তাঁর চোখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স যাদব
প্রিন্স যাদব ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনার একটি আলোচিত কোচিং সেন্টার হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন।
গত ২ জুন পাটনার “খান গ্লোবাল স্টাডিজ” কোচিং সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
এই মামলায় তাঁর বড় ভাই রওশন আনন্দকে আগেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রওশন ও প্রিন্স—দুজনই পাটনার আরেকটি কোচিং সেন্টার “জ্ঞান বিন্দু”-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
কোচিং সেন্টার ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ
পাটনার কোচিং বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা যায়। জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সল খান, যিনি “খান স্যার” নামে পরিচিত, তাঁর প্রতিষ্ঠিত Khan Global Studies দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মাতৃভাষা হিন্দিতে সহজবোধ্য পাঠদান এবং তুলনামূলক কম ফি—এই দুই কারণে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, একই শহরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিযোগী কোচিং সেন্টারের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলা ও সহিংসতার ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ জুন “খান গ্লোবাল স্টাডিজ”-এ হামলার সময় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং বোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে আকাশে গুলি ছোড়েন বলে জানা যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রওশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করে। একই ঘটনায় কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীদেরও আটক করা হয়।
তদন্ত ও আইনগত অগ্রগতি
প্রিন্স যাদব ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন এবং নেপালে আত্মগোপনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, হোটেল কক্ষে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। আঘাতের চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে বিহার পুলিশের পক্ষ থেকেও নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য আদান-প্রদান চলছে বলে জানা গেছে।
কোচিং ব্যবসা ও প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট
“খান স্যার” নামে পরিচিত ফয়সল খানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Khan Global Studies কোচিং প্রতিষ্ঠানটি ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার জন্য পরিচিত।
অন্যদিকে, উচ্চ ফি নির্ভর কোচিং সেন্টারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে পাটনায় একটি চাপা উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের দাবি।
পরিস্থিতি এখনো অস্থির
প্রিন্স যাদবের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ও কোচিং সেন্টার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
কোচিং সেন্টার হামলার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত প্রিন্স যাদবের আকস্মিক মৃত্যু পুরো ঘটনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। এখন তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।
ভারত ও নেপাল—দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই এখন ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।