ঢাকা

মেক্সিকোয় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে গুলি, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও ঐতিহাসিক জোকালো (Zócalo) পাবলিক স্কয়ারের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার সংঘটিত এ ঘটনাকে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের এত কাছাকাছি এমন হামলার ঘটনা বিরল হওয়ায় এটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং হামলাকারীকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

নিহত একজন, আহত দুজন

মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সচিবালয় জানিয়েছে, হামলায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি, যাঁদের উভয়ের বয়স ৩৯ বছর।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় হামলাকারী

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারী গুলি চালানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তিনি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে হামলাকারীর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কোথায় ঘটেছে হামলা

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি ঘটেছে সান্তো ডোমিঙ্গো চত্বরে, যা মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রের অংশ এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো স্কয়ার থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।

ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্যে ঘেরা এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জাল পরিচয়পত্র, ডিগ্রি সনদসহ বিভিন্ন ধরনের ভুয়া নথি তৈরি ও বিক্রির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতেও এলাকাটি বরাবরই রয়েছে।

রাজধানীতে এমন হামলা বিরল

মেক্সিকোতে মাদক পাচারকারী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অঞ্চলে বন্দুক হামলা, গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা নিয়মিত ঘটনা।

তবে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছাকাছি প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা সাধারণত কম ঘটে।

সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র

যদিও রাজধানীকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়, তবু সেখানে ইউনিয়ন তেপিতো (Unión Tepito) এবং ফুয়ের্সা অ্যান্টি ইউনিয়ন (Fuerza Anti-Unión)-এর মতো কয়েকটি সড়কভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে।

এসব গোষ্ঠী মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র বাণিজ্য এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলার পেছনে এ ধরনের কোনো অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে।

তদন্ত অব্যাহত

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং এটি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার অংশ—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। হামলাকারীকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স