ঢাকা

আন্দোলনের পর দ্রুত পদক্ষেপ, কুমিল্লার মহিলা কলেজে ৬ শিক্ষকের পদায়ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ছয়জন নতুন শিক্ষককে পদায়ন ও বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কলেজটির সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একদিন পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাঁরা পদায়ন ও বদলি হলেন

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে মো. মোস্তফা সারওয়ার খানকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজে কর্মরত ছিলেন।

অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। তিনিও মাউশিতে ওএসডি থেকে কুমিল্লার গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।

ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মতিনকে নবীনগর সরকারি কলেজ থেকে একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।

গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন মো. খালেদ ইকবাল জুয়েল। তিনি মাউশিতে ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে ইসরাফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে। তিনি মাউশিতে ওএসডি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. হাবিব উল্লাহকে একই পদে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।

যে ঘটনার পর শুরু হয় বিতর্ক

গত ১৩ জুলাই ভারী বৃষ্টির মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রের আশপাশে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

অনেক শিক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয় এবং সেই অবস্থাতেই প্রায় তিন ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, জলাবদ্ধতার মধ্যেও যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সাত শিক্ষক বদলির সিদ্ধান্ত, এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ঘটনার পর শিক্ষা প্রশাসন কলেজটির সাত শিক্ষককে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের দাবি ছিল, শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরদিনই শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন ছয় শিক্ষককে পদায়ন ও বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে।

দ্রুত যোগদানের নির্দেশ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে যোগদান করতে হবে। এই পদায়নের মাধ্যমে কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষকসংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক, পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, শিক্ষকদের বদলি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই পদায়নকে ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স