ঢাকা

জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ৯ বেসরকারি বিল পাস হয়েছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
কোন সংসদে কত বেসরকারি বিল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে কোনো বেসরকারি বিল ছিল না। দ্বিতীয় সংসদে বেসরকারি বিল পাওয়া যায় ৪৭টি। এর মধ্যে ২০টি উত্থাপিত হয়েছিল। আর পাস হয়েছিল দুটি। বিল দুটি ছিল—দ্য ডাওরি প্রোহিবিশন অ্যাক্ট, ১৯৮০। বেসরকারি বিলটি এনেছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য দৌলতননেছা খাতুন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে এটি রহিত করে যৌতুক নিরোধ আইন করা হয়। দ্বিতীয় সংসদে পাস হওয়া অন্য বেসরকারি বিলটি ছিল মুসলিম লীগের সংসদ সদস্য আওছাফুর রহমানের আনা ‘দ্য খুলনা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট’।

তৃতীয় সংসদে ৫টি বেসরকারি বিলের মধ্যে উত্থাপিত হয়েছিল ১টি। সেটি (বাংলা ভাষা প্রচলন আইন–১৯৮৭) সংসদে পাস হয়। এ বিলটি এনেছিলেন জাতীয় পার্টির টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী।

চতুর্থ সংসদে ৬টি বিলের মধ্যে ২টি উত্থাপিত হলেও কোনোটি পাস হয়নি।

সবচেয়ে বেশি ৭৪টি বেসরকারি বিল পাওয়া গিয়েছিল পঞ্চম সংসদে। এর মধ্যে ১২টি বিল উত্থাপিত হয়েছিল, পাস হয়েছিল একটি। পাস হওয়া বিলটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভাতাসংক্রান্ত আইনের সংশোধনী আনা হয়েছিল। বিলটি এনেছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম ফরিদা রহমান।

সপ্তম জাতীয় সংসদে ৫১টি বেসরকারি বিল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯টি উত্থাপিত হলেও পাস হয় ১টি। সেটি ছিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর আনা বিল। এটি পাসের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন আইন–২০০১ প্রণীত হয়েছিল।

এরপরের অষ্টম সংসদে ২১টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৯টি উত্থাপিত হয়েছিল। পাস হয়েছিল একটি। এর মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন আইন রহিত করা হয়। এ–সংক্রান্ত বিলটি এনেছিলেন বিএনপির সামসুল আলম প্রামাণিক।

সবচেয়ে বেশি বেসরকারি বিল পাস হয়েছিল নবম জাতীয় সংসদে। ওই সংসদে ২১টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ১৪টি উত্থাপিত হয়েছিল। পাস হয়েছিল ৩টি বিল। এর মধ্যে দুটি ছিল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর। এর একটি ছিল ‘দ্য লেপারস (রিপিল) অ্যাক্ট–২০১১’। এটি পাসের মাধ্যমে কুষ্ঠরোগীদের সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে ব্রিটিশ আমলের আইনটি বাতিল করা হয়েছিল। অন্যটি ছিল নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) বিল–২০১৩। ওই সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হকের একটি বিল পাস হয়। সেটি ছিল পিতা–মাতার ভরণ–পোষণ বিল–২০১৩।

দশম জাতীয় সংসদে ১৬টি বেসরকারি বিলের মধ্যে ৫টি উত্থাপিত হলেও কোনোটি পাস হয়নি। একাদশ সংসদে ১০টি বেসরকারি বিলের একটি উত্থাপিত হলেও তা পাস হয়নি। চলতি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দুটি বেসরকারি বিল পাওয়া গেছে। তবে সে দুটি এখনো উত্থাপিত হয়নি।
কমিটির বৈঠক

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠক সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এ ছাড়া কমিটির কার্যপরিধি, বেসরকারি বিল এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে কমিটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেসরকারি বিল উত্থাপনে সব সংসদ সদস্যকে সচেতন করতে কমিটির সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, তাহসিনা রুশদীর, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, শাহজাহান চৌধুরী ও মো নূরুল ইসলাম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স