ঢাকা

জুলাই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বৈরাচারবিরোধী চেতনায় উজ্জীবিত করবে: স্পিকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জাদুঘর দেশের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, এই জাদুঘর যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন বাংলাদেশের মানুষের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসও জীবন্ত থাকবে।

আজ মঙ্গলবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘১৬ বছরের নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে’

স্পিকার বলেন, “স্বৈরাচারী মাফিয়া শেখ হাসিনার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মুনশিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং ওয়াসিম–সহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সময় গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি ভুয়া সমবেদনা প্রকাশ ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।

‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ অনন্য’

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় হিসেবে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণরা দেশের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমান উৎসর্গ করেছেন, যা বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য

এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জাদুঘর ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশের মুক্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাদুঘর ঘুরে দেখলেন শীর্ষ ব্যক্তিরা

এর আগে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তাঁরা ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি রোড’–এ ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্থিরচিত্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁরা জুলাই অভ্যুত্থান, কোটা আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং ১–৩৬ জুলাই ২০২৪ সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কিত নথি ও প্রদর্শনী দেখেন।

এ ছাড়া পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং বিভিন্ন আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণকারী কর্নারও তাঁরা পরিদর্শন করেন।

আবেগঘন মুহূর্ত ও স্মৃতিচিহ্ন

পরিদর্শনের সময় শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী, রক্তাক্ত পোশাক এবং স্মৃতিচিহ্ন দেখে উপস্থিতরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জাদুঘরে সংরক্ষিত শহীদদের নানা স্মৃতি ও প্রতীকী প্রদর্শনী—যার মধ্যে রয়েছে আয়নাঘর মিনিয়েচার, গুমের স্মৃতিচিহ্ন এবং আন্দোলনের গ্রাফিতি—পরিদর্শনকারীদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।

জাদুঘর উদ্বোধনের সময়সূচি

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের শুরুতে উন্মুক্ত করা হবে।

উপস্থিতি ও আনুষ্ঠানিকতা

পরিদর্শনকালে জাদুঘরের মহাপরিচালক, কিউরেটর টিমের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে প্রধান ফটকে প্রেস ব্রিফিং করেন শীর্ষ অতিথিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জাদুঘর উদ্বোধনের মাধ্যমে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় স্মৃতিচর্চায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স