ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হলে দূষিত পানি পানের কারণে কয়েক শ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক ছাত্রীরা বলছেন, গত কয়েক দিনে ধারাবাহিকভাবে অনেক শিক্ষার্থী পানিবাহিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, হলের পানির ফিল্টার থেকেই এ সংকটের সূত্রপাত।
হলের একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শুরুতে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও পরে দেখা যায় বিভিন্ন ভবনের ছাত্রীরাই একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কেউ কেউ ক্যানটিনের খাবার নিয়ে সন্দেহ করলেও পরে ধারণা জোরালো হয় যে সমস্যার মূল উৎস পানি। কারণ, অসুস্থদের মধ্যে অনেকে নিজেরাই রান্না করে খেয়ে থাকেন।
জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর গত ৬ মে ক্যানটিন ও পানির উৎস পরিদর্শন করা হয়। পরে হল প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন উৎস থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার বিকেলে হল সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিনটি আলাদা উৎসের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, ছাদের ট্যাংকের পানি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ, ডাইনিং সংলগ্ন পানির উৎস সরাসরি পানের অনুপযোগী এবং অফিসের ট্যাংকের পানি তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
হল সংসদের সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা জানান, প্রশাসনের পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বাড়ে। পরে হল সংসদ আলাদাভাবে নমুনা পরীক্ষা করায়। সেই পরীক্ষায় মূল পানির উৎসে বড় ধরনের সমস্যা না পাওয়া গেলেও ফিল্টারগুলোতে জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। তাঁদের মতে, ফিল্টারের দূষণের কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছেন।
এর আগে অসুস্থতার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল হলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিল্টারের যন্ত্রাংশ পুনঃস্থাপন, কার্টিজ পরিবর্তন ও জীবাণুনাশক প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানির ট্যাংকগুলোও পরিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করা হয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য খাতে নিয়মিত অর্থ প্রদান করলেও প্রয়োজনের সময় যথাযথ চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—হলের স্বাস্থ্য ও ক্যানটিন–সংক্রান্ত ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ, প্রশাসনের অবহেলার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা।
এ ঘটনার পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে নিরাপদ পানি, মানসম্মত খাবার, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও হল প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।