জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই। লিভারজনিত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
কারিনার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ জানান, চিকিৎসার একটি পর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বর ও সংক্রমণে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতা ধরা পড়ে। এর প্রভাবে লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একপর্যায়ে লিভার ফেইলিউরের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা কায়সার। পরবর্তীতে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও নিজেকে যুক্ত করেন। ওটিটি ও নাট্যাঙ্গনে ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।
তাঁর অভিনীত ও লেখা উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। অভিনয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল গল্প বলার ধরনেও দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি।
কারিনার মৃত্যুর খবরে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।