ঢাকা

‘ফারাক্কা বাঁধ দেশের জন্য অভিশাপ’—বললেন ফখরুল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের নির্মিত Farakka Barrage বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন Mirza Fakhrul Islam Alamgir। তিনি বলেছেন, অভিন্ন নদীগুলোতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও সামগ্রিক অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) মহাসচিব এসব কথা বলেন।

‘৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত’

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভারত একতরফাভাবে নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার করছে।

তার ভাষায়, এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। দেশের অনেক অঞ্চল ধীরে ধীরে শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে উঠছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

‘বাংলাদেশ নিষ্ফলা ঊষর ভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা’

বিএনপি মহাসচিবের মতে, পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পানিসংকট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নিষ্ফলা ঊষর ভূমিতে পরিণত হওয়ার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।”

ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে Maulana Abdul Hamid Khan Bhashani–এর ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেন।

তিনি বলেন, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ফারাক্কা বাঁধের সম্ভাব্য মানবিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম স্থায়ী রূপ নেয় এবং এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে।

তার দাবি, এর ফলে বাংলাদেশের মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত প্রভাব

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণের পর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকা পানিসংকটে পড়েছে। সেখানে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি মনে করেন, পানিবণ্টনে ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

ন্যায্য পানিবণ্টনের দাবি

ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মির্জা ফখরুল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স