কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা স্মৃতিচারণ করছেন তাঁকে নিয়ে। এদিকে শেষবারের মতো কারিনাকে দেখতে অপেক্ষা করছেন স্বজন ও অনুরাগীরা।
কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তাঁর বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, আজ শনিবার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আগামীকাল রোববার চেন্নাই থেকে ঢাকায় আনা হবে।
শনিবার সকালে তিনি বলেন, মরদেহ সংরক্ষণসহ কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। এ কারণে নির্ধারিত বিকেলের ফ্লাইট ধরা সম্ভব হয়নি। সবকিছু শেষ হলে রোববারের ফ্লাইটে কারিনাকে দেশে আনা হবে।
লিভারজনিত জটিলতায় ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে মারা যান কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কয়েক দিন আগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর বাবা কায়সার হামিদ।
তিনি জানান, চিকিৎসার একপর্যায়ে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় কারিনার রক্তচাপ হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
মাত্র ৩০ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমান কারিনা। তিনি বাবা-মা ও দুই ভাই রেখে গেছেন। দেশের বরেণ্য দাবাড়ু রানী হামিদ তাঁর দাদি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-এর জটিলতায় তাঁর লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা। পরে নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ শুরু করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর আলোচিত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
কারিনার মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।