ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় ম্যাচটি ছিল অনেকটাই নিস্তেজ। দুই দলের সতর্ক ফুটবলে দর্শকদের উত্তেজনার চেয়ে অপেক্ষাই ছিল বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই একঘেয়েমি ভাঙেন আন্তোয়ান সেমেনিও। তাঁর এক দুর্দান্ত গোলেই চেলসিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা ঘরে তোলে ম্যানচেস্টার সিটি।
পুরো ম্যাচজুড়ে চেলসি রক্ষণ সামলে খেলায় বেশি মনোযোগ দেয়। সিটির আক্রমণ ঠেকানোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বলের দখল বেশি থাকলেও পেপ গার্দিওলার দলের আক্রমণে ছিল না স্বাভাবিক ধার। ফলে প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য সুযোগও খুব কম তৈরি হয়।
তবে বিরতির আগে একবার জালে বল পাঠিয়েছিলেন আর্লিং হলান্ড। কিন্তু আক্রমণ গড়ার সময় অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল হয়। পরে মার্ক গুয়েহির পাস থেকে আরেকটি সুযোগ পেলেও হলান্ডের শট সহজেই ধরে ফেলেন চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা বাড়ে। সিটির হয়ে প্রথম বড় সুযোগ নষ্ট করেন সেমেনিও নিজেই। নিকো ও’রাইলির ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। চেলসিও পাল্টা আক্রমণে ভয় ধরিয়েছিল। ময়জেস কাইসেদোর হেড প্রায় গোললাইন পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু ঠিক সময় হেড করে বিপদ কাটান রদ্রি।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৭২ মিনিটে। বার্নার্দো সিলভা ও হলান্ডের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পান সেমেনিও। এরপর অসাধারণ দক্ষতায় করা তাঁর ফ্লিক শটে বল জড়িয়ে যায় চেলসির জালে। সেই গোলেই এগিয়ে যায় সিটি।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে চেলসি। এনজো ফার্নান্দেজ একটি ভালো সুযোগ পেলেও তাঁর ভলি অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু মাথেউস নুনেস ও রায়ান চেরকির দুটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সানচেজ। তবু শেষ রক্ষা হয়নি চেলসির।
এই জয়ে ইতিহাসে অষ্টমবারের মতো এফএ কাপ জিতল ম্যানচেস্টার সিটি। একই সঙ্গে পেপ গার্দিওলার অধীনে এটি ক্লাবটির ২০তম শিরোপা।