রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত East West University–এ গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টার ২০২৬-এর নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বর্ণাঢ্য নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১৩টি বিভাগের প্রায় ২ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে প্রতিটি বিভাগ পৃথকভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসব আয়োজনে নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা, আচরণবিধি, নিয়ম-কানুন, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন এবং Mohammad Farashuddin, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য Shams Rahman, সহ-উপাচার্য Ashik Mosaddik এবং কোষাধ্যক্ষ Ishfaq Ilahi Choudhury। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নবীনবরণের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল অ্যালামনাই এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতি। তাঁরা নিজেদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন, মূল্যবোধ চর্চা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাঁরা নবীন শিক্ষার্থীদের সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদার্পণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, নতুন শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।