ঢাকা

হামে মৃত্যুতে উদ্বেগ, সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ নাহিদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশে হামের প্রকোপে শিশুদের মৃত্যু সরকারের চরম ব্যর্থতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন Nahid Islam। তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে Bangladesh Medical Association মিলনায়তনে আয়োজিত Jatiya Youth Shakti–এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘হাম সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ সরকার’

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে একাধিক সংকট চলমান থাকলেও সরকার সেগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সারাদেশে হামের প্রকোপে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।

তিনি বলেন, “এই মৃত্যুর দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এটি সরাসরি প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা।”

স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি

তিনি অবিলম্বে দেশে ‘মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি’ বা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতালকে বিশেষায়িত করে শুধুমাত্র হাম চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

তার মতে, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

দায় এড়ানোর রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার হাম পরিস্থিতির দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর দোষ চাপাচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, যদি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা থেকে এই সংকট তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা উচিত।

গণভোট ও সংস্কার ইস্যুতে মন্তব্য

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে সরকার গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষায়, “সংস্কারের যে অঙ্গীকার নিয়ে জনগণ আন্দোলন করেছিল, তা বাস্তবায়ন না করে সরকার তাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে।”

সীমান্ত হত্যা ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গ

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ফারাক্কা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

ঐতিহাসিক ফারাক্কা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রয়োজনে সীমান্ত ও পানিসম্পদ রক্ষায় নতুন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের নদী ও পানির অধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদীয় আলোচনা ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো চুক্তি অবশ্যই সংসদে আলোচনা করে স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক অবস্থান

আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও Bangladesh Nationalist Party–এর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশ কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে চলতে পারে না।

তার মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অবশ্যই জনগণের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করে নিতে হবে।

স্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা কার্যক্রম, সচেতনতা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ইস্যু ঘিরে দায়-দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স