গাজায় সামরিক পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন Hamas তাদের সামরিক শাখার শীর্ষ নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই হামলায় তার স্ত্রী ও কন্যাও নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
ইসরায়েল এর আগে দাবি করেছিল, গাজা নগরীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে এই শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই প্রাণঘাতী হামলা
গত অক্টোবরে ঘোষিত একটি যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ওই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হামলা চালিয়ে হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের দাবি ও সামরিক অভিযান
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (Israel Defense Forces) জানিয়েছে, শুক্রবার গাজা নগরীতে একটি “নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে” বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবারের দিনটি ছিল ফিলিস্তিনিদের জন্য নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়।
হামাসের স্বীকৃতি ও পারিবারিক হতাহতের তথ্য
পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে Hamas ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংগঠনটি জানায়, হামলায় তার স্ত্রী ও ১৯ বছর বয়সী কন্যাও নিহত হয়েছেন।
হামাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া ইজ্জ আল-দিন সংগঠনের সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করতেন।
জানাজা ও স্থানীয় পরিস্থিতি
গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-আকসা শহীদ মসজিদে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হতাহতের বিস্তৃত চিত্র
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার গাজা উপত্যকায় অন্তত দুটি পৃথক ইসরায়েলি হামলায় মোট সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুটি শিশু রয়েছে।
একটি হামলায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে হামাসের এই শীর্ষ কমান্ডার সপরিবার অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সংঘাতের নতুন পর্যায়
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময় এমন উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন করে উত্তেজিত করতে পারে। বিশেষ করে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।