রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে Samajtantrik Chhatra Front। একই সঙ্গে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ দাবি করেছেন, ওই হামলার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এ ঘটনায় দলটির আমিরকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরেন তিনি। সারা দেশে মাজার, দরগা ও খানকায় হামলা-সহিংসতার বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণের দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
‘সারা দেশে দঙ্গলবাজি বেড়েছে’—অভিযোগ ছাত্র ফেডারেশনের
সমাবেশে সৈকত আরিফ অভিযোগ করেন, জুলাই–পরবর্তী সময়ে দেশে ধারাবাহিকভাবে সহিংসতা ও ‘দঙ্গলবাজি’ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনও হামলার শিকার হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদপত্র Prothom Alo, The Daily Star এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাদের মূল্যায়ন। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন সময় সহিংস ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বর্তমান সরকারের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, নির্বাচনের পরও দঙ্গলবাজি দমনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক।
শাহ আলী মাজার হামলা নিয়ে অভিযোগ
সৈকত আরিফ বলেন, মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় পুলিশ ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন বলে তারা জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে আইনগতভাবে চূড়ান্ত তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনার দায় স্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি
সমাবেশ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়—
- শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার
- সারা দেশে মাজার, দরগা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত
- ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
সমাবেশে সংগঠনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল-আমিন রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, দেশে ধর্মীয় সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিল
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।
মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়, যেখানে হামলার বিচার, সহিংসতা বন্ধ এবং গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।