জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে জনগণ তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, দলটি ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘উনি দেশে আসতে চাচ্ছেন তো। জনগণ আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত আছে। আসেন, কীভাবে আসবেন, আসেন।’
বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিবাদকে সুযোগ দেওয়ার’ অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ও ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আদালতের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ জামিন দেওয়া হচ্ছে এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নামে তাদের আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনার মন্ত্রী-মিনিস্টারদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের আপনি আদালত থেকে জামিন দিচ্ছেন। ইনক্লুসিভ ইলেকশনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মাদের বাংলাদেশে ঢোকার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। আবার যদি ২৪-এর রক্তাক্ত ইতিহাস সৃষ্টিকারী ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মাকে এই সুযোগ দেন, জনগণ তা মেনে নেবে না।’
‘জুলাইয়ের স্মৃতি বিএনপি ভুলে গেছে’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত স্মৃতি দেশের মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। তবে তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক সুফল পাওয়া বিএনপি ওই ইতিহাসকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সুবিধাভোগী ক্ষমতাসীন বিএনপি সেই ইতিহাস ভুলে গেছে। তা না হলে সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির এমপিরা কীভাবে বলেন, এত জুলাইয়ের বক্তৃতার দরকার কী? অথচ জুলাইয়ের বিপ্লব না হলে তাঁরা এমপি–মন্ত্রী হতে পারতেন না।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটে পাওয়া জনরায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের উদ্যোগ নিতে হবে এবং সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় কার্যকরের জন্য পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার পরিষদের আহ্বান করুন। ৮৪টি সংস্কার সম্পন্ন করুন এবং সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করুন। তা না হলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক যদি পার্লামেন্টে নিষ্পত্তি না করেন, আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না। ৭০ ভাগ লোকের কাছে রাজপথে তার ফয়সালা হবে।’
বায়তুল মোকাররমে দক্ষিণ জামায়াতের সমাবেশ
একই দাবিতে শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।
তিনি দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না।
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দল হলো সেই দল, যে জনগণের মতামতকে সম্মান করে। কিন্তু বিএনপি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একটি অগণতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সংসদের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াই রাজপথে গড়াতে পারে।
সমাবেশ শেষে মিছিল, মহাখালীতে যানজট
মহাখালীর সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মহাখালী থেকে শুরু হয়ে তেজগাঁওয়ের তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাখালী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও যানবাহনকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অন্যদিকে বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। উভয় সমাবেশেই দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।