ঢাকা

কানাডার নতুন স্টাডি পারমিট নীতি: অর্থের উৎস ও নথি যাচাইয়ে বাড়তি গুরুত্ব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (পিজিডব্লিউপি)–সংক্রান্ত নির্দেশনা আরও বিস্তারিত ও কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করেছে কানাডা সরকার। নতুন ব্যাখ্যায় ভর্তি, একাডেমিক অগ্রগতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, স্টাডি পারমিটের মেয়াদ এবং পিজিডব্লিউপির যোগ্যতা নির্ধারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) গত কয়েক সপ্তাহে এ–সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, এগুলো কোনো নতুন নীতি নয়; বরং আগে থেকেই কার্যকর থাকা নিয়মগুলোর আরও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিবাসন কর্মকর্তারা একইভাবে বিধানগুলো প্রয়োগ করতে পারেন।

কোর্স শেষের ৯০ দিনের মধ্যে স্টাডি পারমিটের মেয়াদ

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী যেদিন প্রথমবারের মতো তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লিশন লেটার, অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা পাবেন, সেদিনই তাঁর পড়াশোনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

অর্থাৎ, এসব নথিতে উল্লেখ করা তারিখই কোর্স সমাপ্তির সরকারি তারিখ হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ওই তারিখের ৯০ দিন পর স্টাডি পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, যদি পারমিটে এর আগের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকে।

প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে নতুন স্টাডি পারমিট বাধ্যতামূলক

আইআরসিসি জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিটে নির্দিষ্ট কোনো ডিজাইনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন (ডিএলআই) বা অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ রয়েছে, তাঁরা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে চাইলে আগে নতুন স্টাডি পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।

নতুন পারমিট ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করলে সেটি অনুমতিবিহীন অধ্যয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, শিক্ষার্থী আগের প্রতিষ্ঠানে আর নিবন্ধিত না থাকলে তাঁর আগের স্টাডি পারমিট কার্যকর থাকবে না।

তবে একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই শিক্ষাস্তরে (যেমন স্নাতক থেকে আরেকটি স্নাতক প্রোগ্রামে) প্রোগ্রাম পরিবর্তন করলে নতুন স্টাডি পারমিটের প্রয়োজন হবে না, যদি বিদ্যমান পারমিটে অন্য কোনো বিশেষ শর্ত আরোপ করা না থাকে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ভর্তি হতে গেলেও নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে নতুন স্টাডি পারমিট নিতে হবে।

একাডেমিক অগ্রগতির ওপর কড়া নজরদারি

হালনাগাদ নির্দেশনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির ওপর আরও কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে।

যদিও সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের অনুমোদিত শিক্ষাবিরতির নিয়ম বহাল রয়েছে, তবুও এখন অভিবাসন কর্মকর্তারা কোনো শিক্ষার্থী বারবার বিরতি নিচ্ছেন কি না, তা বিশেষভাবে পর্যালোচনা করবেন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করার মতো বাস্তব অগ্রগতি করছেন কি না, নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

স্টাডি পারমিট ছাড়াই পড়াশোনার সুবিধা বাতিল

আইআরসিসি আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ক পারমিটধারীর জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়াই কানাডায় পড়াশোনার যে অস্থায়ী সুবিধা চালু ছিল, সেটিও শেষ হয়েছে।

কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৩ সালের ২৭ জুন এই অস্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ জুন এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে ওই সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়ম অনুযায়ী স্টাডি পারমিট নিয়েই পড়াশোনা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নীতি ঘোষণা না করলেও বিদ্যমান নিয়মগুলোর ব্যাখ্যা আরও কঠোরভাবে উপস্থাপন করায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবিক প্রভাব তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যারা কানাডায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বা বর্তমানে সেখানে অধ্যয়নরত, তাঁদের স্টাডি পারমিটের শর্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের নিয়ম, একাডেমিক অগ্রগতির বাধ্যবাধকতা এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতার শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি আইআরসিসির সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স