ঢাকা

কাবা শরিফ নিয়ে কৌতূহল: কেন ঢেকে রাখা হয় এবং ভেতরে কী দেখা যায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পবিত্র হজের মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির কেন্দ্রবিন্দু থাকে কাবা শরিফ। সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত এই ঘনাকৃতির স্থাপনাটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র ঘর হিসেবে বিবেচিত। হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় জিলহজ মাসের ৮ তারিখ থেকে, যেখানে হাজিরা কাবাকে তাওয়াফ করেন—অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন।

বিশ্বের প্রায় ১৫ লাখের বেশি মুসলমান এ বছর হজ পালনে মক্কায় সমবেত হয়েছেন। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জীবনে অন্তত একবার এটি পালন করা ফরজ।

কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে আবৃত?

কাবা শরিফকে যেই বিশেষ কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়, তাকে বলা হয় কিসওয়া (Kiswah)। এটি সাধারণত কালো রঙের একটি উচ্চমানের রেশমি কাপড়, যার ওপর সোনার ও রুপার সুতা দিয়ে কোরআনের আয়াত ও ইসলামি অলংকরণ করা থাকে।

কাবাকে ঢেকে রাখার প্রচলন বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো—

কাবার পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করা
তাপ, ধুলাবালি ও প্রাকৃতিক ক্ষয় থেকে সুরক্ষা
ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বজায় রাখা
কাবাকে আলাদা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিচয়ে উপস্থাপন করা

প্রতিবছর হজের সময় কিসওয়া পরিবর্তন করা হয় এবং পুরোনো কভারকে সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ বা অংশবিশেষ দান করা হয়।

কিসওয়া কীভাবে তৈরি হয়?

কিসওয়া তৈরি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। সৌদি আরবের বিশেষ কারখানায় এটি প্রস্তুত করা হয়, যেখানে—

উচ্চমানের রেশম ব্যবহার করা হয়
সোনার ও রুপার সুতা দিয়ে কোরআনের আয়াত লেখা হয়
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে দক্ষ কারিগররা কাজ করেন

একটি পূর্ণ কিসওয়া তৈরিতে প্রচুর শ্রম, সময় এবং খরচ লাগে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ধর্মীয় বস্ত্রে পরিণত করেছে।

কাবা শরিফের ভেতরে কী আছে?

বহিরাবরণে কাবা দেখতে খুবই সাধারণ হলেও এর ভেতরের অংশ সম্পর্কে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। কাবার ভেতর সাধারণত—

মার্বেল পাথরের মেঝে ও দেয়াল
ছাদের কাঠামো ও তিনটি কাঠের স্তম্ভ
সুগন্ধি তেল ও ধূপ ব্যবহারের ব্যবস্থা
ল্যাম্প ও আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা

কাবার ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাধারণত সীমিত। বছরে কয়েকবার বিশেষ অতিথি বা কর্মকর্তাদের জন্য ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

কাবা শরিফের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, কাবা শরিফকে পৃথিবীর প্রথম উপাসনালয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) পুনর্নির্মাণ করেন।

মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এটি আল্লাহর ঘর (বাইতুল্লাহ), এবং পৃথিবীর সব মুসলমান নামাজের সময় এই কাবার দিকেই মুখ করেন।

হজ ও তাওয়াফের গুরুত্ব

হজের সময় কাবাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তাওয়াফ। এতে হাজিরা কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন। এটি একত্ববাদ, সমতা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

এছাড়া হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পাঁচ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়, যা মুসলমানদের আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা হয়।



কাবা শরিফ শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং মুসলমানদের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র। এর কালো কিসওয়া, ভেতরের সরল কাঠামো এবং তাওয়াফের আচার—সব মিলিয়ে এটি ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

হজের মৌসুমে এই পবিত্র ঘরকে ঘিরে যে আবেগ ও আধ্যাত্মিকতা তৈরি হয়, তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের বিশ্বাস ও ঐক্যের প্রতিফলন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স