ঢাকা

যশোরে পাটওয়ারীকে ঘিরে হামলার অভিযোগ, ডিম নিক্ষেপের দাবি এনসিপির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর গাড়িবহরে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে।

বুধবার (৪ জুন) বেনাপোলের সাদিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দলের দাবি অনুযায়ী, সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে প্রথমে ডিম নিক্ষেপ এবং পরে বেনাপোল বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল প্রথম আলোকে জানান, “পুশ-ইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে আমরা সীমান্ত পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে সাদিপুর এলাকায় কয়েকজন যুবক গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, প্রথম ঘটনায় কেউ আহত হয়নি কারণ ডিমগুলো গাড়ির কাচে লেগেছিল। পরে বেনাপোল স্থলবন্দর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এনসিপির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রশক্তির নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদ এবং যুবশক্তির নেতা রুপম আহসান আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে আহতদের পরিচয় বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গাড়ির ভাঙা কাচের ছবি পোস্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “ফেরার পথে আমাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, “এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। এনসিপি নেতারা কীভাবে বলছেন, তা আমাদের জানা নেই।”

পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন অবস্থান দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্ত শুরু হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

পরবর্তীতে ফেরার পথে সংঘটিত এই ঘটনার অভিযোগ ও পুলিশের অস্বীকৃতির মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা আসেনি।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।



নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স