সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, তাদের গবেষণাকে শুধুমাত্র সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি মূল আলোচনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, তারা কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়; বরং গবেষণা, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। ফলে তাদের প্রতিবেদন প্রণয়নের পদ্ধতি মূলত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং যাচাইয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
সংস্থাটি জানায়, গবেষণার জন্য তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উৎস, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র ব্যবহার করে থাকে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে তা যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণের পরই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধপ্রবণতা এবং নারী-শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছিল টিআইবি। এরপর বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রতিক্রিয়ায় টিআইবি বলেছে, গবেষণার ফলাফল নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে গবেষণা প্রক্রিয়াকে অবমূল্যায়ন করা বা একে কেবল সংবাদপত্রনির্ভর হিসেবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটির মতে, তথ্যের উৎস ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করলে জনপরিসরে গবেষণাভিত্তিক আলোচনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক এবং জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তাই সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে সামগ্রিকভাবে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।
টিআইবি মনে করে, তাদের প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে অযৌক্তিক বিতর্ক সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বাস্তব চিত্র মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।