বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, বিশ্বকাপ জয়ের যে স্বপ্ন এতদিন বুকে লালন করেছিলেন, সেটির সমাপ্তি ঘটেছে।
অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে এবং তাঁর কাছে সবকিছু যেন এখানেই থেমে গেল। আরও বলেন, যেখানে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখানেই যেন এর সমাপ্তি ঘটল।
২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সেই ম্যাচও হয়েছিল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ১৬ বছর পর একই ভেন্যুতে এমন বিদায়ের ইঙ্গিত দেওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তাঁর শেষ উপস্থিতি।
এই হারের মাধ্যমে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের অন্যতম হতাশাজনক অভিযান শেষ করল। ফলে বিশ্বকাপ শিরোপার দীর্ঘ অপেক্ষাও আরও বেড়ে গেল। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলে ব্রাজিলের শিরোপাহীন সময় দাঁড়াবে ২৮ বছরে, যা আধুনিক ইতিহাসে তাদের দীর্ঘতম ব্যবধানগুলোর একটি।
পরাজয়ের পর মাঠেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি নেইমার। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপা জিততে না পারা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হলো। একই অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাও।
যদি নেইমারের বক্তব্যই তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হয়ে থাকে, তাহলে ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হবে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্টের দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে।
জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ জয়। পাশাপাশি ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলের স্বর্ণপদক এনে দেন তিনি।