ঢাকা

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সরকারি বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত বন্দরনগরী হোদেইদাহ প্রদেশে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আকস্মিক হামলায় অন্তত ১৪ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। তবে হুতি বিদ্রোহীদের নিহত বা আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আজ রোববার এক সরকারি সামরিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

হাইস এলাকায় কয়েক ঘণ্টার তীব্র সংঘর্ষ

সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, হোদেইদাহ প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাইস এলাকায় শনিবার ভোরে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে আকস্মিক হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা।

সরকারি বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন সরকারি সেনা নিহত হন।

কর্মকর্তা জানান, সরকারি বাহিনী হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং সংঘর্ষে হুতি বিদ্রোহীদেরও বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। তবে বিদ্রোহী পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

দীর্ঘ এক দশকের সংঘাত

ইয়েমেনে ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।

দীর্ঘ এক দশকের এই সংঘাতে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইয়েমেন।

বর্তমানে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা, হোদেইদাহ বন্দরসহ ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও অস্থিরতা

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবু উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়নি। তবে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, সীমান্ত এলাকায় হামলা এবং সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ হোদেইদাহর সংঘর্ষকে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য সহিংসতার একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবকে হুমকি

এদিকে এই সংঘর্ষের একদিন আগে, শুক্রবার, হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির অভিযোগ, সৌদি আরব একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

হুতিরা নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’–এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গোষ্ঠীটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হোদেইদাহর এই নতুন সংঘর্ষ এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হুমকি ইয়েমেনের সংঘাতকে আবারও নতুন করে উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স