ব্রাজিল ১–২ নরওয়ে
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নাটকীয় এক লড়াইয়ে ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। দলের জয়ের নায়ক ছিলেন আর্লিং হলান্ড, যিনি দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে ব্রাজিলের স্বপ্ন ভেঙে দেন। শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও তা শুধুই ব্যবধান কমিয়েছে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার। তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পুরো ম্যাচে ভিনিসিয়ুস একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও ব্রাজিল কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের শুরুতে বলের দখল নরওয়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় ব্রাজিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমার্ধেই পেনাল্টি আদায় করে তারা। কিন্তু ব্রুনো গিমারাইস স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াই পরে বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।
ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় নরওয়ে। যদিও প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি, তবে বিরতির পর খেলার গতি বেড়ে যায়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিবর্তন এনে এনদ্রিককে মাঠে নামান। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
এরপর ৬৮ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। তবে তিনি খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই দৃশ্যপটে হাজির হন হলান্ড। ৭৯ মিনিটে শক্তিশালী হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলকে আরও চাপে ফেলে দেন এই স্ট্রাইকার।
হলান্ডের এই জোড়া গোল তাঁকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শীর্ষ সারিতে নিয়ে গেছে। সাত গোল নিয়ে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সমান অবস্থানে উঠে এসেছেন।
যোগ করা সময়ে ব্রাজিল আরেকটি পেনাল্টি পায়। এবার স্পট কিক থেকে সফল হন নেইমার। তবে ম্যাচে ফেরার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হলান্ড ও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের লড়াই। প্রথমার্ধে গ্যাব্রিয়েল তাঁকে ভালোভাবেই সামাল দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলে যায়। দুটি গোলই করেন হলান্ড, আর সেগুলোই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ব্রাজিল সুযোগ বেশি তৈরি করেছিল। দলটি ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে। তাদের প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) ছিল ২.৭৩। বিপরীতে নরওয়ের এক্সজি ছিল মাত্র ০.৮৪। তবু সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই পরাজয়ের পর ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে তাঁর চুক্তি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।