ঢাকা

আওয়ামী লীগের বিষয়ে তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তদন্ত শেষে যদি দলটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায় এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত

চিফ প্রসিকিউটর জানান, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের একজন প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগটি নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সেটির তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি না, তা তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। তদন্তে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায় এবং সেই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে আসে, তাহলে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নতুন করে আলোচনা

চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি সরকারসহ বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হলে খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের আলোকে আইন সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিধান অনুযায়ী রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিচার করার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপট

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করেছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)।

উল্লেখ্য, এনডিএমের প্রতিষ্ঠাতা ববি হাজ্জাজ পরবর্তীতে দলটি ছেড়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আইনি ভিত্তি তুলে ধরলেন চিফ প্রসিকিউটর

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের বিচার এবং কোনো দল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বর্তমানে যে আইনি কাঠামো রয়েছে, তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত বা সংশোধিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩–এর অধীনে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। পরে ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে সেখানে ‘অর্গানাইজেশন’ (সংগঠন) শব্দটি যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯–এও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘আইন একই, বিচারও একই আইনে চলছে’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংগঠনের বিচার ও কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিধান আওয়ামী লীগ সরকারই বিভিন্ন সময়ে আইনে যুক্ত করেছে। অন্য কোনো সরকার এ ধরনের আইন প্রণয়ন করেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং একই আইনের অধীনেই বর্তমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স