ঢাকা

মেলানিয়ার সেই আকস্মিক এপস্টিন-বক্তব্যের নেপথ্যের তথ্য প্রকাশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
হোয়াইট হাউসের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে গত এপ্রিলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত আকস্মিক বক্তব্য সে সময় ওয়াশিংটনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশে অনাগ্রহী ছিল, ঠিক তখনই মেলানিয়ার প্রকাশ্য অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি করে। অবশেষে তাঁর এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সেই বক্তব্যের নেপথ্যের কারণ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক বেকম্যান বলেন, ওই বক্তব্যের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সরকারি রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যে, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে মেলানিয়ার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি কখনো এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

কেন প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন মেলানিয়া

মার্ক বেকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, মেলানিয়া ট্রাম্প চেয়েছিলেন নিজেকে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের একজন সমর্থক হিসেবে তুলে ধরতে এবং একই সঙ্গে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করতে।

তিনি বলেন, “জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর (মেলানিয়ার) কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এখনো নেই—এটি কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে তুলে ধরার একটি সুযোগ ছিল। একই সঙ্গে তিনি চেয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা যেন কংগ্রেসে এসে শপথ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পান।”

কী বলেছিলেন মেলানিয়া

গত ৯ এপ্রিল দেওয়া বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন যে, তিনি কখনো জেফরি এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন অথবা তাঁর মাধ্যমে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এপস্টিনের কোনো অপরাধ তিনি প্রত্যক্ষ করেননি এবং তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততাও ছিল না।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি গুঞ্জনও নাকচ করে দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জেফরি এপস্টিন তাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন—এ দাবি সত্য নয়।

কংগ্রেসে গণশুনানির আহ্বান

মেলানিয়ার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের জন্য কংগ্রেসে প্রকাশ্য গণশুনানির দাবি।

তিনি বলেন, “এই ভুক্তভোগীদের কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দিন। প্রত্যেক নারীকে প্রকাশ্যে নিজের গল্প বলার সুযোগ পাওয়া উচিত।”

সে সময় এ বক্তব্যকে অনেকেই এপস্টিন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবিতে কংগ্রেসে গড়ে ওঠা দ্বিদলীয় উদ্যোগের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখেছিলেন।

প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও

মেলানিয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

এপস্টিনের জীবিত ভুক্তভোগীদের একটি সংগঠন অভিযোগ করে, ফার্স্ট লেডি কার্যত ভুক্তভোগীদের ওপরই ন্যায়বিচারের দাবিতে সামনে এসে লড়াই করার অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছেন।

সংগঠনটির মতে, ভুক্তভোগীদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানানোর আগে সরকারের উচিত ছিল বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ‘এপস্টিন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তাদের ভাষ্য, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে সেই দায়িত্ব ভুক্তভোগীদের কাঁধে চাপিয়ে দিতে পারে না।

সমর্থনও পেয়েছেন ফার্স্ট লেডি

অন্যদিকে মেলানিয়ার অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন অনেক রাজনীতিক ও অধিকারকর্মী।

যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ন্যান্সি মেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ লিখেছিলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; বরং ব্যক্তিগত এবং মানবিক প্রশ্ন।

তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি যখন প্রকাশ্যে এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান, তখন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।

বিচার বিভাগের অবস্থান অপরিবর্তিত

মেলানিয়ার বক্তব্যের পরও ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ এপস্টিন–সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ না করার অবস্থানে অনড় রয়েছে।

বিচার বিভাগের যুক্তি, নথিগুলোর কিছু অংশ প্রকাশ করা হলে জীবিত ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সমীচীন নয়।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

ফার্স্ট লেডির বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, “এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি জানতাম না, তিনি কী বলবেন। শুধু জানতাম, তিনি একটি বিবৃতি দিতে যাচ্ছেন।”

আদালতের নির্দেশের পরও আইনি লড়াই

এদিকে এপস্টিন–সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

একজন ফেডারেল বিচারক সম্প্রতি বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত নথির যেসব অংশ কালো কালি দিয়ে ঢেকে প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করতে হবে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে কোন আইনি ভিত্তিতে তথ্যগুলো গোপন রাখা হচ্ছে, তার বিস্তারিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে হবে।

তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও মার্কিন বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত কিছু নথি গোপন রাখার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার স্বার্থেই কিছু নথি প্রকাশ না করা প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স