বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার কারণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি তুলে ধরা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তবে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং ওই অঞ্চলের অধীন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের বাকি শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সোমবার সকালে কিছু এলাকায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে যাতায়াতে ভোগান্তি দেখা দিলেও স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ডের মতে, লাখো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চলমান পরীক্ষা বারবার পেছানো হলে ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং পুরো শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। একই সঙ্গে একটি বোর্ডের সমস্যার কারণে দেশের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।
তবে কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে বা পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে বোর্ড।
এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন নিয়ে তদন্ত, প্রয়োজন হলে পূর্ণ নম্বর
এদিকে এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।
কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যালোচনায় যদি প্রশ্নে কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে, যাতে কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হন।