ঢাকা

রাষ্ট্রীয় সম্মান শেষে সংসদ চত্বরে সমাহিত হলেন জমির উদ্দিন সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের নির্ধারিত স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাঁকে সংসদ ভবন চত্বরে সমাহিত করা হয়। যে সংসদ ভবনে তিনি দীর্ঘ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করে দেশের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণেই তাঁর চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যে এক গভীর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

জানাজা ও দাফান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, আইনজীবী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে ও পরে প্রয়াত এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব এ এস এম বাহাউদ্দিন শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ ও অন্যান্য হুইপ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষে সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ কর্মকর্তারা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষ মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আত্মার শান্তি ও জান্নাত কামনা করেন।

শেষ বিদায়ের মুহূর্তে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে ছিল গভীর শোকের আবহ। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল প্রার্থনা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা স্মরণ করেন তাঁর প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ব্যক্তিগত সৌজন্য, বিনয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের কথা। বক্তাদের ভাষ্যে, দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবসময় সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি আইন পেশাতেও ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সংসদীয় চর্চা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সংসদীয় পরিমণ্ডল এবং আইনজীবী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দোয়া, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং সর্বস্তরের মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবকের শেষ যাত্রা। তাঁর প্রস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মৃত্যুতে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতীয় সংসদের স্পিকার, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স