ঢাকা

ভোকেশনালে ভর্তি বৃদ্ধি লক্ষ্য, ৭ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পরিচালিত এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে প্রত্যাশিতসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও শিক্ষা উপকরণের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ভর্তি কার্যক্রম জোরদার করতে সাতটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষককে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জারি করা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে দেশের সব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, জনবল ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ থাকা সত্ত্বেও এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির হার আশানুরূপ নয়। এর ফলে সরকারের বিনিয়োগ করা অবকাঠামো ও জনবলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যও ব্যাহত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাতটি কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা আয়োজন করতে হবে, যাতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরা যায়।

এ ছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ট্রেড, আধুনিক ল্যাব সুবিধা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কেবল টেলিভিশন, স্থানীয় গণমাধ্যম, ব্যানার, লিফলেটসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এসএসসি (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষককে নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করতে হবে, যাতে ভর্তি কার্যক্রমে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়।

এ ছাড়া ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ট্রেডভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত ছকে প্রস্তুত করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে ভর্তি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, গৃহীত কার্যক্রম ও ভর্তির সার্বিক অগ্রগতির প্রথম প্রতিবেদন আগামী ২০ আগস্ট-এর মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। পরে চূড়ান্ত ভর্তি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ১৫ সেপ্টেম্বর-এর মধ্যে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোতে এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, অব্যবহৃত আসন কমানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার কার্যকারিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স