দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব কার্যক্রম পর্যালোচনা করে শিক্ষা প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক পাঠদান, শিক্ষকদের যুগোপযোগী ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা প্রশাসনে জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে কর্মরত অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কার্যকর নীতি প্রণয়নের জন্য মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, পেশাদারত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনা শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।