ঢাকা

আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দলের ভালো অবস্থান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন)। অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, অনুষ্ঠিত ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পেয়েছে পিএমএল-এন। বাকি চারটি আসনে জয় পেয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।

সোমবার আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় ভোট গণনা। পরে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে পিএমএল-এনের বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়।

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুর জেলার দুটি, ভিম্বর জেলার তিনটি এবং কোটলি জেলার চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি এবং কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

পিএমএল-এনের প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তিনি বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে দাবি করেছেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল।

রানা সানাউল্লাহ বলেন, সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল এবং জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

তবে নির্বাচনের সময় কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনা পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটে, যেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। আরেকটি ঘটনা ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন।

তিনি জানান, নাকিয়ালের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স সরানোর অভিযোগ

রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের একটি আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর দাবি, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক বার্তা

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচন পাকিস্তানের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনে পিএমএল-এনের এই সাফল্য দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে পিপিপি চারটি আসনে জয় পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

প্রথম ধাপের ভোটের পর এখন পরবর্তী ধাপের নির্বাচনের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক দলগুলোর। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভায় কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটিই হবে মূল আলোচনার বিষয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স