ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহ এমরান বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত রোববার (২৬ জুলাই) চার বছরের জন্য তাঁর এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলে মোট তিনজন পূর্ণকালীন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক শাহ এমরান অন্যতম। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গুণগত নিশ্চয়তা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা অবদান বিবেচনায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শিক্ষকতা ও গবেষণায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
অধ্যাপক শাহ এমরানের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত ক্যারিয়ার দেশের উচ্চশিক্ষা ও ফার্মেসি শিক্ষার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর জাপানের ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফার্মেসি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালে তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বর্তমানে ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
শিল্প খাতেও রয়েছে পেশাগত অভিজ্ঞতা
একাডেমিক জীবনে প্রবেশের আগে ও পাশাপাশি ওষুধ শিল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা রয়েছে অধ্যাপক শাহ এমরানের। তিনি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইউনিক ফার্মাসিউটিক্যালস-এ প্রোডাকশন ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস-এ কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এই শিল্প-অভিজ্ঞতা তাঁর শিক্ষা ও গবেষণাকে বাস্তবমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
গবেষণা ও প্রকাশনায় সমৃদ্ধ অবদান
অধ্যাপক শাহ এমরান দেশের অন্যতম সক্রিয় গবেষকদের একজন। দেশি ও আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে তাঁর ১৭৫টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া তিনি ১৬টি বই এবং পাঁচটি বইয়ের অধ্যায়ের রচয়িতা। গবেষক তৈরিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে এখন পর্যন্ত ২৩ জন এমফার্ম, পাঁচজন এমফিল এবং ছয়জন পিএইচডি গবেষক সফলভাবে তাঁদের গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে কাজ করবে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৭-এর অধীনে গঠিত এই সংস্থা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মূল্যায়ন ও অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান করে। এর মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং গুণগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে।
নবনিযুক্ত পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে অধ্যাপক শাহ এমরান আগামী চার বছর বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের নীতিনির্ধারণ, মূল্যায়ন এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।