ঢাকা

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ব্যাংকিং সম্পর্ক ছিন্নের কারণ প্রকাশ করল ক্যাপিটাল ওয়ান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শত শত ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, রাজনৈতিক কারণে নয়; বরং দীর্ঘ পর্যালোচনা এবং অর্থ পাচারবিরোধী (এএমএল) বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতেই কয়েক বছর আগে এসব হিসাব বন্ধ করা হয়েছিল।

শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে ব্যাংকটি বলেছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের হিসাবগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা এবং অর্থ পাচারবিরোধী নীতিমালার অংশ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের করা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রথম কোনো মার্কিন ব্যাংক আনুষ্ঠানিক আদালতের নথিতে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ব্যাংকিং কার্যক্রম ঘিরে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টি প্রকাশ্যে উল্লেখ করল। যদিও ব্যাংকটি স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে কখনো অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ আনেনি।

দীর্ঘ পর্যালোচনার পর হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্ত

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ক্যাপিটাল ওয়ান জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে পরিচালিত বিশদ বিশ্লেষণ এবং ব্যাংকের অর্থ পাচারবিরোধী বিশেষজ্ঞ দলের সতর্ক মূল্যায়নের পর হিসাবগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি তাদের নিজস্ব নীতিমালা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নির্দেশনা অনুসরণ করেই নেওয়া হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, বাদীপক্ষের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থেকেই স্পষ্ট যে, হিসাব বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থ পাচারবিরোধী নীতিমালাই মূল বিবেচ্য ছিল।

৩০০টির বেশি হিসাব বন্ধের পরিকল্পনা

ক্যাপিটাল ওয়ান ২০২১ সালের মার্চ মাসে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানায়।

এর প্রায় চার বছর পর, ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে ক্যাপিটাল ওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেয়। ট্রাম্পপক্ষের দাবি, এটি ছিল রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।

তাদের আরও অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যায়ভাবে ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়’

তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে ক্যাপিটাল ওয়ান।

ব্যাংকটির দাবি, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং আদালতে উপস্থাপিত নথির আংশিক উদ্ধৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ব্যাংকটি বলেছে, ট্রাম্পপক্ষের সর্বশেষ সংশোধিত অভিযোগপত্রেও আগের দুটি অভিযোগের মতো একই ধরনের মৌলিক ত্রুটি রয়েছে।

এর আগে মিয়ামির ফেডারেল আদালত এই মামলার দুটি অভিযোগপত্র খারিজ করে দিলেও ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগ দিয়েছিল।

‘ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের ধরন’ শনাক্তের দাবি

ক্যাপিটাল ওয়ান আদালতের নথিতে আরও বলেছে, তাদের পর্যবেক্ষণে এমন কিছু লেনদেনের ধরন শনাক্ত হয়েছিল, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা বিশেষ নজরদারির আওতাভুক্ত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে ব্যাংকটি স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন কোনোভাবেই অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগ নয়। বরং এটি ব্যাংকের বাধ্যতামূলক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসরণের অংশ।

রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি

মামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং ক্যাপিটাল ওয়ান—উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায়

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় ব্যাংকের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এ অবস্থান রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রক্ষণশীল ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করে থাকে।

অন্যদিকে ক্যাপিটাল ওয়ানের বক্তব্য হলো, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের হিসাব বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না; এটি ছিল কেবল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ পাচারবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ।

এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত ক্যাপিটাল ওয়ানের খারিজের আবেদন গ্রহণ করবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মামলার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স