২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলও রয়েছে। তবে এবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন।
ফলাফল দেখতে শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাবে। এ ছাড়া এডুবোর্ড রেজাল্টস ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।
ওয়েবসাইটে যেভাবে ফল দেখা যাবে
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফলাফল দেখতে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে পারবেন। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবে।
এসএমএসে এসএসসির ফল জানার পদ্ধতি
অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। এবার আগের ১৬২২২ নম্বরের পাশাপাশি ১৬১৪০ নম্বরেও এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
SSC <বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর> <রোল নম্বর> <পরীক্ষার বছর>
এরপর এসএমএসটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ:
SSC DHA 123456 2026
এই এসএমএসটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার্থীর ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
মাদরাসা বোর্ডের ফল যেভাবে জানা যাবে
দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফলাফল এসএমএসে পেতে আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
Dakhil <Board Name-এর প্রথম তিন অক্ষর> <Roll> <Year>
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে লিখতে হবে—
Dakhil MAD 123456 2026
এটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যারা প্রিরেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
কারিগরি বোর্ডের ফল জানার নিয়ম
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরাও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে লিখতে হবে—
SSC <Board Name-এর প্রথম তিন অক্ষর> <Roll> <Year>
উদাহরণ:
SSC TEC 123456 2026
এই এসএমএসটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার্থীর ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে
অনলাইনে বা এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল দেখার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে ব্যক্তিগত পরীক্ষার্থীর ফলাফল সরবরাহ করা হবে না। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইট, এসএমএস এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বা রেজাল্ট শিট পেতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর রেজাল্ট কর্নার-এ গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে।
EIIN নম্বর সঠিকভাবে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল দেখা এবং রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ
এবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা ছিল।
তবে বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর এবার ফল প্রকাশ করা হলো।
পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।
এর মধ্যে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরাও এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপ হবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ফলাফলের ভিত্তিতে পছন্দের কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে জানাবে।