স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সামার-২০২৬ সেমিস্টারের ৮৭তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে দিনব্যাপী ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই নতুন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ, নিয়মকানুন, সুযোগ-সুবিধা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত করে তোলার লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয় বেলা ৩টায়। এতে সামার-২০২৬ সেমিস্টারের ৮৭তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারহানাজ ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ নাফে আস-সাবের।
উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক বলেন, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের সময় নয়; এ সময় একজন শিক্ষার্থী নিজের জ্ঞান, দক্ষতা, চিন্তাশক্তি ও দায়িত্ববোধকে বিকশিত করার সুযোগ পায়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষাসচিবের বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশাও তুলে ধরা হয়।
সংস্কৃতিচর্চায় গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু একাডেমিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুললেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিশ্চিত হয় না। ব্যক্তিত্ব বিকাশ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। স্টামফোর্ডের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এমন একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রশংসা করেন তিনি।
নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নাটকসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি পরিশ্রমের আহ্বান
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারহানাজ ফিরোজ নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের সহযোগিতা নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা অনুযায়ী বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় জরুরি
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ নাফে আস-সাবের বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও সমাজের জন্য প্রস্তুত হতে হলে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে।
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্যের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা ডিগ্রির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান অর্জন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই দিকনির্দেশনা
ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা। অনুষ্ঠানে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, বিভিন্ন নিয়মকানুন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন একাডেমিক প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হলে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে শিক্ষক, প্রশাসন ও সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নবীনদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে ওঠে।
৮৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীরা নিজেদের সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণবন্ত আয়োজন
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা তুলে ধরেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক পর্ব পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এর মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উৎসাহও পান।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে সহায়তা করে।
নতুন যাত্রায় নবীনদের প্রত্যাশা
সামার-২০২৬ সেমিস্টারের ৮৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা, সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা, সংস্কৃতিচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা উঠে আসে।
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই ওরিয়েন্টেশন শুধু তাঁদের স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের লক্ষ্য ও সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্ব, অতিথিদের বক্তব্য, নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সামার-২০২৬ সেমিস্টারের ৮৭তম ব্যাচের ফ্রেশম্যান ওরিয়েন্টেশন শেষ হয়।