রয়টার্স
ত্রিশূলী, নেপাল
নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী জনপদে বুধবার সকালটা শুরু হয়েছিল আর দশটি দিনের মতোই। আগের রাতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। সকালের আকাশ ছিল পরিষ্কার, রোদও ছিল ঝলমলে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবেই কাজে বেরিয়েছিলেন। কেউ বাজারে যাচ্ছিলেন, কেউ কর্মস্থলে, কেউ আবার সীমান্তের পথে। কাঠমান্ডু থেকে তিব্বতের লাসাকে যুক্ত করা সড়কেও পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের চলাচল ছিল স্বাভাবিক।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট।
তিব্বতের দিক থেকে হঠাৎ করে নেমে আসে বিপুল জল, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে নদীগুলো ভয়ংকর রূপ নেয়। প্রবল ঢল ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো। অনেক মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিখোঁজ হয়ে যান।
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নেপালে ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।
জাতিসংঘের হিসাবে, বন্যা ও ভূমিধসের পর এ পর্যন্ত ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নেপাল জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে।
তবে দুর্যোগের ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। তিব্বতের যে এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস নেমেছিল, সেখানে নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছে। এর পেছনে বিপুল পরিমাণ পানি জমে থাকায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবারও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গিরং এলাকার উজানে ওই হ্রদে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধটি ভেঙে গেলে নতুন করে ভয়াবহ ঢল নেমে আসতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, পানির প্রবাহ আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
১১ বছর পর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ
নেপালে এক যুগের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় দুর্যোগ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের এপ্রিলে দেশটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হয়েছিল। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন।
এবারের দুর্যোগের ধরন অবশ্য আলাদা। এর কেন্দ্র ছিল হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য এলাকা। বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল ধস নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নদীর সঙ্গে মিশে ভয়াবহ ঢলের সৃষ্টি করে।
দুর্যোগের সঠিক কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো বিশ্লেষণ করছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্রে হিমবাহ, বরফ ও পাথরের বড় ধরনের ধসের প্রমাণ মিলেছে।
১০ ঘণ্টায় তিব্বত থেকে নেপালের ভাটিতে
নেপালের সেন্টার অব হাইড্রোলজি অ্যান্ড ওয়াটার রিসোর্সেস রিসার্চের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের একটি কারিগরি প্রতিবেদনে বুধবারের ঢলের গতিপথ ও সময়ের প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। এর মাত্র ২৮ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে, কর্তৃপক্ষ খবর পায় তিব্বতের দিক থেকে প্রবল ঢল ভোতেকোশি নদীতে প্রবেশ করেছে।
সেখান থেকে ঢল ভোতেকোশি নদী ধরে ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করে এবং দ্রুত ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে কর্তৃপক্ষ দ্রুত নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠাতে শুরু করে। সকাল ৯টা ১৫ থেকে ৯টা ১৬ মিনিটের মধ্যে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের ছয় লাখের বেশি এসএমএস পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়।
কিন্তু স্রোতের গতি এত বেশি ছিল যে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও অনেক মানুষের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় ছিল না।
বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে মালেখুর ফুরকে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। মাত্র ১৭ মিনিট পর, ১১টা ৪৩ মিনিটে, বন্যার পানিতে ফুরকে সেতু ও আশপাশের স্থাপনা ভেসে যায়।
বেলা একটার দিকে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে ঢল মুগলিন এলাকা পার হয়ে গেছে। এরপর দেবঘাট পর্যন্ত ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢল নারায়ণী-দেবঘাট এলাকায় পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর, বিকেল ৪টার দিকে, দেবঘাটে নদীর পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫৭ মিটারে পৌঁছায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে পানির উচ্চতা কমতে শুরু করে।
প্রাথমিক হিসাবে, বন্যার সঙ্গে প্রায় দুই কোটি ঘনমিটার অতিরিক্ত পানি নেমে এসেছিল। অর্থাৎ তিব্বতের দিক থেকে ভোতেকোশিতে প্রবেশের পর প্রায় ১০ ঘণ্টায় সেই বিপুল জলরাশি ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী পেরিয়ে দেবঘাটে পৌঁছে যায়।
কীভাবে তৈরি হলো ভয়াবহ ঢল
রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার সঠিক কারণ নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়ে।
এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে যায় এবং একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। বর্ষার পানি জমে সেখানে একটি অস্থায়ী হ্রদের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পানি, বরফ, পাথর ও কাদা একসঙ্গে প্রবল বেগে ভাটির দিকে নেমে আসে।
লাংটাং লিরুংয়ের উচ্চতা ৭ হাজার ২৪৫ মিটার। পুরো পর্বতটি নেপালের ভূখণ্ডে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণেও রাসুয়াগাধি সীমান্ত ক্রসিংয়ের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বড় ধরনের ধসের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটিও বরফ ও পাথরের ধসকে বন্যার প্রধান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে।
ভূমিকম্প, নাকি ধস—কারণ নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা
দুর্যোগের পর প্রথমদিকে নেপালের কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে গিয়ে বন্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএসের বিশ্লেষণে ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের সময় যে কম্পন তৈরি হয়েছিল, সেটিই প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে।
অর্থাৎ, ভূমিকম্পের কারণে ধস নেমেছিল—এমনটা নিশ্চিত নয়। বরং ধসের কারণেই ভূমিকম্পের মতো কম্পন সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
ধসে পড়া বরফ, পাথর ও মাটি নদীর পানির সঙ্গে মিশে গেলে তা প্রবল গতির ধ্বংসাত্মক স্রোতে পরিণত হয়। এই স্রোতই পরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে অতিক্রম করে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
সেকেন্ডে ৫০ মিটার বেগে ধ্বংসের স্রোত
চীনের সরকারি ভূতত্ত্ববিদ গুও ঝাওচেং বলেন, উঁচু পার্বত্য এলাকায় বরফের ধস থেকেই এই বিশাল ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ তৈরি হয়েছে। পথে সেটি পাথর ও কাদা সঙ্গে নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তাঁর মতে, ধ্বংসাবশেষের স্রোতটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ মিটার বেগে ছুটে যায়। চীনের অংশে এটি ২০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এত দ্রুতগতিতে স্রোত নেমে আসায় বহু মানুষ নিজেদের রক্ষা করার মতো সময়ই পাননি।
নেপাল রেডক্রস জানিয়েছে, কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা?
বন্যার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করার বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক। কারণ একটি নির্দিষ্ট ধস বা বন্যার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে সরাসরি দায়ী করতে আরও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
তবে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ, তুষার ও ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউজিল্যান্ডের আর্থ সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী সাইমন কক্স বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উঁচু পর্বতে বরফ ও পাথর অস্থিতিশীল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে বরফ গলার পানি বাড়ে। একই সঙ্গে বরফ জমা ও গলার ধরন এবং বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসে। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে বড় ধরনের ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তসরকারি সংস্থা আইসিআইএমওডির বিশেষজ্ঞ ফারুক আজমের মতে, ভারী তুষার গলা ও ভূকম্পনের সম্মিলিত প্রভাবেও বরফ ও পাথরের ধস শুরু হতে পারে।
জাতিসংঘের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের সামান্য বেশি সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে নেপালের তুষারাবৃত পাহাড়ে থাকা মোট বরফের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গলে গেছে। আগের দশকের তুলনায় সর্বশেষ দশকে নেপালের হিমবাহ গলার হার ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
সামনে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা
এখন উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নেপাল ও চীনের কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নতুন একটি প্রাকৃতিক বাঁধকে ঘিরে।
তিব্বতের গিরং এলাকার উজানে ধসের ফলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমতে থাকা পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকালেই সেখানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে।
প্রাকৃতিক বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে তিব্বত ও নেপালের ভাটির এলাকাগুলোতে আবারও বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।
পানির প্রবাহ আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফলে প্রথম দফার ভয়াবহ বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্বজনের অপেক্ষায় হাসপাতাল
নেপালে এখন একদিকে চলছে উদ্ধার অভিযান, অন্যদিকে চলছে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নদীতীর এবং ভাটির এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারে করে খাবার, তাঁবু ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে পুলিশের একটি ডেস্কে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ও ছবি টানিয়ে রাখা হয়েছে।
কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে ঢুকলেই স্বজনেরা ছুটে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যেকের মনে একটাই আশা—হয়তো ভেতরে তাঁদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন রয়েছেন।
কিন্তু অনেকের সেই অপেক্ষার শেষ হচ্ছে না।
বন্যায় স্ত্রীকে হারানো ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল রয়টার্সকে জানান, কাদার বিশাল ঢল তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ার পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোত তাঁর স্ত্রীর হাত ছিনিয়ে নেয়।
এরপর থেকে তিনি স্ত্রীর খোঁজে অপেক্ষা করছেন।
কেশবের মতো আরও বহু মানুষ এখন নদীর তীর, হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। কেউ অপেক্ষা করছেন জীবিত স্বজনের ফিরে আসার আশায়, কেউ মরদেহ শনাক্ত করার জন্য।
এদিকে পাহাড়ের ওপর নতুন করে পানি জমছে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে আবারও ঢল নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ নেপালের জন্য এই দুর্যোগ এখনো শেষ হয়নি; প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরও একটি সম্ভাব্য বড় বিপদ।