আল–জাজিরা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। কঠিন কোনো বিষয় সহজ করে বোঝা, তথ্য খোঁজা, লেখার খসড়া তৈরি কিংবা হোমওয়ার্ক শেষ করতে এখন অনেক শিক্ষার্থীই জেনারেটিভ এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে। এতে একদিকে সময় কমছে, অন্যদিকে বাড়ির কাজ বা অ্যাসাইনমেন্টে ভালো নম্বরও পাওয়া যাচ্ছে।
কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে তৈরি হচ্ছে অন্য একটি সমস্যা। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের নিজের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে বাড়ির কাজের ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও পরীক্ষার হলে যখন এআইয়ের সাহায্য নেওয়ার সুযোগ থাকে না, তখন সেই শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
নতুন একটি গবেষণায় এমনই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের পর শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্কের নম্বর বাড়লেও এআই ছাড়া পরীক্ষায় তাদের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
হোমওয়ার্কে নম্বর বাড়লেও পরীক্ষায় কম
শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে গবেষণাটি করেছেন স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড স্ট্রমবার্গ এবং হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্টর লেই ও ইয়ানহুই উ। চীনের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর ৩০ মাস ধরে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের পর শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্কের নম্বর গড়ে ১৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে একটি অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করতে তাদের প্রয়োজনীয় সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এআই ব্যবহারের আগে একটি হোমওয়ার্ক বা অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করতে শিক্ষার্থীদের গড়ে ৬৪ মিনিট সময় লাগত। এআই ব্যবহারের পর সেই সময় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ মিনিটে। অর্থাৎ প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত কাজ শেষ করতে পারছে এবং অ্যাসাইনমেন্টের নম্বরও আগের তুলনায় বেশি পাচ্ছে।
কিন্তু গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আসে যখন একই শিক্ষার্থীদের এআই ছাড়া পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এআই ছাড়া নেওয়া মাসিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। শুধু নিয়মিত পরীক্ষাতেই নয়, উচ্চঝুঁকির ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও তাদের ফল খারাপ হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
অর্থাৎ, এআই ব্যবহার করে হোমওয়ার্কের কাজ দ্রুত ও ভালোভাবে শেষ করার সক্ষমতা বাড়লেও সেই কাজের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান সব সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতায় পরিণত হচ্ছে না।
এখানেই শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বড় প্রশ্নটি সামনে আসে—একজন শিক্ষার্থী আসলে শিখছে, নাকি শুধু একটি ভালো উত্তর তৈরি করছে?
‘মেটাকগনিটিভ অলসতা’র ঝুঁকি
এআই ব্যবহারের এই দ্বৈত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গবেষণাও। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) প্রকাশিত গবেষণা-সমন্বয়ে বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার যদি নির্দিষ্ট শিক্ষাকাঠামো ও নির্দেশনার মধ্যে না থাকে, তাহলে এটি শিক্ষার্থীদের কাজের পারফরম্যান্স বাড়াতে পারে। তবে সেই উন্নতি সব সময় প্রকৃত শেখার অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
এর কারণ, কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীকে নিজে চিন্তা করতে, ভুল করতে, তথ্য যাচাই করতে এবং সমাধানে পৌঁছাতে যে মানসিক পরিশ্রম করতে হয়, এআই অনেক সময় সেই প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়।
গবেষকেরা শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও শেখার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রচেষ্টা কমে যাওয়ার এই প্রবণতাকে ‘মেটাকগনিটিভ অলসতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো প্রশ্নের উত্তর নিজে খুঁজে বের করার পরিবর্তে শিক্ষার্থী যদি সরাসরি এআইকে প্রশ্ন করে তৈরি উত্তর গ্রহণ করে, তাহলে তার কাজটি হয়তো দ্রুত শেষ হচ্ছে। কিন্তু ওই উত্তর তৈরির পেছনের যুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা বিষয়টি বোঝার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে।
ফলে পরীক্ষার সময় যখন এআই পাশে থাকে না, তখন শিক্ষার্থীকে নিজের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। তখনই তার দুর্বলতা প্রকাশ পেতে পারে।
কীভাবে এআই ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীরা অবশ্য শুধু হোমওয়ার্ক লিখিয়ে নেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করছে না। পড়াশোনার বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য খোঁজা, জটিল বিষয় সহজভাবে বোঝা এবং ধারণা পরিষ্কার করার জন্যও তারা প্রযুক্তিটির ওপর নির্ভর করছে।
ভোডাফোন ফাউন্ডেশনের জন্য ইপসোস পরিচালিত একটি জরিপে ইউরোপের সাতটি দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার শিক্ষার্থীর এআই ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো তথ্য খোঁজা। ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, পড়াশোনার সময় বিভিন্ন তথ্য জানতে তারা এআই ব্যবহার করে।
আর ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, কোনো শব্দ, বিষয় বা ধারণা সহজভাবে বুঝতে তারা এআইয়ের সাহায্য নেয়। অর্থাৎ, এআইকে একজন ডিজিটাল সহকারী বা ব্যাখ্যাকারী হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতাও যথেষ্ট বেশি।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, তারা কোনো কাজের সম্পূর্ণ সমাধান পেতে এআই ব্যবহার করে।
এখানেই এআইকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা এবং শিক্ষার্থীর হয়ে কাজ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।
একজন শিক্ষার্থী যদি এআইকে বলে, ‘এই বিষয়টি আমাকে বুঝিয়ে দাও’ অথবা ‘আমার উত্তরটি কোথায় ভুল হয়েছে তা দেখাও’, তাহলে সে শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকে। কিন্তু যদি সে পুরো প্রশ্নপত্র বা অ্যাসাইনমেন্ট এআইয়ের হাতে তুলে দিয়ে শুধু তৈরি উত্তর গ্রহণ করে, তাহলে শেখার মূল কাজটি আর তার নিজের থাকে না।
পড়াশোনার বাইরেও এআইয়ের প্রভাব
এআইয়ের ব্যবহার এখন শুধু স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানসিক সহায়তা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ৫৪ জন পূর্ণকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, এআই তাদের শিক্ষাজীবন উন্নত করেছে।
সময় বাঁচানো, বিষয়বস্তু সহজে বোঝা এবং তাৎক্ষণিক ব্যক্তিগত সহায়তা পাওয়াকে তারা এআই ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অর্থাৎ, কোনো শিক্ষার্থী যখন ক্লাসে একটি বিষয় বুঝতে পারছে না, তখন শিক্ষক বা সহপাঠীর কাছে অপেক্ষা না করে সে তাৎক্ষণিকভাবে এআইয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারছে। একইভাবে দীর্ঘ কোনো পাঠকে সংক্ষেপ করা, কঠিন শব্দের অর্থ জানা কিংবা একটি ধারণার উদাহরণ চাওয়াও এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার।
তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক অভিজ্ঞতার ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে চিত্রটি এতটা সরল নয়।
জরিপে ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছে, এআই তাদের একাকিত্বের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনেনি। ২১ শতাংশ বলেছে, এআই ব্যবহারের ফলে তারা কম একাকিত্ব অনুভব করে। বিপরীতে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মতে, এআই ব্যবহারের কারণে তারা আরও বেশি একাকিত্ব অনুভব করে।
এতে বোঝা যায়, এআই শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পারলেও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে এর ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়।
সমস্যাটি এআই নয়, ব্যবহারের ধরন
গবেষণাগুলোর ফলাফল থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই যে শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি ক্ষতিকর। বরং মূল প্রশ্নটি হলো—এআই কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
একজন শিক্ষার্থী যদি এআই ব্যবহার করে কোনো বিষয় সম্পর্কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা নেয়, নিজের লেখা উত্তর যাচাই করে, ভুল ধরিয়ে নেয় কিংবা কঠিন ধারণার সহজ উদাহরণ খুঁজে নেয়, তাহলে প্রযুক্তিটি শেখার প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে।
কিন্তু শিক্ষার্থী যদি নিজের চিন্তার জায়গাটি এআইয়ের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দেয়, তাহলে স্বল্পমেয়াদে তার ফল ভালো হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞান ও দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
হোমওয়ার্কের নম্বর বাড়া তাই সব সময় শেখার উন্নতির প্রমাণ নয়। কোনো শিক্ষার্থী যদি ৬৪ মিনিটের কাজ ৪৫ মিনিটে শেষ করে এবং বেশি নম্বর পায়, সেটি অবশ্যই দক্ষতার একটি সূচক হতে পারে। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী যখন একই ধরনের প্রশ্ন এআই ছাড়া সমাধান করতে গিয়ে ২০ শতাংশ কম নম্বর পায়, তখন বোঝা যায়—কাজটি শেষ করার দক্ষতা এবং বিষয়টি শেখার দক্ষতা এক জিনিস নয়।
শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ
এআইয়ের দ্রুত বিস্তার শিক্ষকদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। শুধু শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। কারণ প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
বরং শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে, কোন ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা যায় এবং কোন ক্ষেত্রে নিজের চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করা জরুরি।
হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা এমন কাজ দিতে পারেন, যেখানে শুধু একটি তৈরি উত্তর জমা দিলেই হবে না; শিক্ষার্থীকে নিজের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে মৌখিক উপস্থাপনা, শ্রেণিকক্ষের আলোচনা এবং এআই ছাড়া লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান যাচাই করা যেতে পারে।
এতে এআই নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিটিকে কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হয়, সেটিও শিখতে পারবে।
দ্রুত কাজ নয়, প্রকৃত শেখাই মূল লক্ষ্য
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর শেখার ক্ষমতা বাড়ানো, তার হয়ে শেখার কাজটি করে দেওয়া নয়।
জেনারেটিভ এআই শিক্ষার্থীদের জন্য শক্তিশালী একটি হাতিয়ার হতে পারে। এটি তথ্য খোঁজা, বিষয় বোঝা, ধারণা পরিষ্কার করা এবং শেখার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সহায়তা দিতে পারে। কিন্তু সেই সুবিধা তখনই দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে, যখন শিক্ষার্থী এআইয়ের উত্তরকে নিজের শেখার বিকল্প না বানিয়ে শেখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করবে।
চীনের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল এ কারণেই শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এআইয়ের সাহায্যে হোমওয়ার্কের নম্বর বাড়ছে, কাজ শেষ করতে সময় কমছে—কিন্তু একই সময়ে এআই ছাড়া পরীক্ষায় ফল কমে যাচ্ছে।
অর্থাৎ, প্রযুক্তি শিক্ষার্থীর কাজকে সহজ করে দিতে পারে, কিন্তু শেখার কঠিন অংশটি পুরোপুরি সরিয়ে দিলে তার মূল্য দিতে হতে পারে পরীক্ষার হলে।
ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থায় তাই প্রশ্নটি শুধু ‘শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করছে কি না’—এতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তারা এআই ব্যবহার করে কতটা শিখছে এবং কতটা শুধু কাজ শেষ করছে।
কারণ হোমওয়ার্কে ভালো নম্বর পাওয়া সাময়িক সাফল্য হতে পারে; কিন্তু নিজের চিন্তা ও জ্ঞান দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারাই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত শেখার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।