সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলকে এখন ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন ভয় দেখানো হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই কোনো অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই বিরোধী দলকে কথা বলতে হবে।
‘সংসদে কথা বলেও সমাধান পাইনি’
জামায়াত আমির বলেন, সংসদের ভেতরে বিভিন্ন বিষয়ে বারবার কথা বলা হয়েছে এবং সমস্যার সমাধানে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কাঙ্ক্ষিত সমাধান না আসায় তাঁদের রাজপথে নামতে হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁদের এখন ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন কথা বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থে বিরোধী দলকে তার দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।
বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ
দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এসব সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে তাঁরা আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্প উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের জন্য ব্যাংকঋণ পরিশোধ করা, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সরকারের অন্যান্য খাতের ব্যয় কমিয়ে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন জামায়াত আমির।
নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আহ্বান
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সরবরাহব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
‘দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে’
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।
তিনি বলেন, জনগণ তাঁদের কাছে অভিযোগ করছে যে দেশে আগের তুলনায় দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে। সরকারের কাছেও একই ধরনের অভিযোগ পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে যত পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, সেগুলো সফলতার মুখ দেখবে না।
শফিকুর রহমানের ভাষায়, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রসঙ্গ
বক্তব্যের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, চার–পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, এটি তাঁর নিজের বক্তব্য নয়; রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য বলেই তিনি দাবি করেন।
সমাবেশে শফিকুর রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।