ঢাকা

একাদশে ভর্তিতে ২৫ লাখ আসনের বিপরীতে আবেদন প্রায় ১০ লাখ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে আবেদনকারীর তুলনায় আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ হওয়ায় এবারও বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মোট আসন বেশি থাকলেও ভর্তি-ইচ্ছুক সব শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে না। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার নামী ও তুলনামূলক ভালো কলেজে আসনসংখ্যা সীমিত। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পছন্দের তুলনায় আসন কম থাকায় ফলাফল ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে তাদের।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল গত ২ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত রোববার আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।

ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি

এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। ভর্তির জন্য কোনো কেন্দ্রীয় বা পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার পর শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছে।

ভর্তি-প্রক্রিয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শেষ করে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় ২৫ লাখ আসন, আবেদন ১০ লাখের কম

দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে। বিপরীতে আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ জন। ফলে মোট আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক কম।

এ কারণে দেশের সব কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসন খালি থাকার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে। কারণ শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম। এসব প্রতিষ্ঠানে আসনের বিপরীতে আবেদন বেশি হওয়ায় ফলাফল ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

বিশেষ করে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দের কলেজে ভর্তির প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কলেজে আসন পূরণ হয়ে গেলে ওই কলেজে পরবর্তী শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

কয়েক বছর ধরে একই পদ্ধতিতে ভর্তি

কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে প্রতিটি কলেজে গিয়ে ভর্তি আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যবস্থার আওতায় দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া আলাদা। একইভাবে ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে নিজস্ব নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।

এসএসসিতে পাস করেছে ১১ লাখের বেশি

এবারের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ওপর। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করে। পরে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর আরও চার হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

ফলে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা মোট পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় কম হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পড়াশোনা, কারিগরি বা অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থা কিংবা ভিন্ন কোনো কারণে একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদন করেনি।

সামনে মনোনয়ন ও ভর্তি

আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা মনোনয়নের ফল প্রকাশের। নির্ধারিত পছন্দক্রম, এসএসসি ও সমমানের ফল এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হবে।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। সব ধাপ শেষ হওয়ার পর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের ভর্তি কার্যক্রমেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম ও ফলাফলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মোট আসন পর্যাপ্ত থাকলেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসন সীমিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে নিজেদের পছন্দের তালিকার পরবর্তী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স