ঢাকা

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে শঙ্কা, সংশোধন না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা বললেন মামুনুল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি সরকারকে বিষয়টি দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মামুনুল হক সতর্ক করে বলেন, সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামার সঙ্গে পরামর্শ করে বিলটির প্রয়োজনীয় সংশোধন না করা হলে এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

‘কার পরামর্শে এমন সিদ্ধান্ত, বোধগম্য নয়’

সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার পরামর্শে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

মামুনুল হকের ভাষ্য, সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, এ ধরনের বিষয়ে সরকারকে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে’

মামুনুল হক বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের বিষয়ে সরকার দ্রুত সংশোধনী উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের অনুভূতি, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও আলেম-ওলামার মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে মতামত গ্রহণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়েও উদ্বেগ

বৈঠকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জনজীবনের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।

মামুনুল হক বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এমন কোনো বিতর্কিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অত্যন্ত হতাশাজনক ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, শুধু আশ্বাস দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সরকারকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্নীতি ও দলীয়করণ বন্ধের দাবি

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় পরিচয়ের প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধেরও আহ্বান জানান মামুনুল হক।

তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় পরিচয়ের প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করা না হলে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোথায়—এ প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।

তাঁর ভাষ্য, জনগণ পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। তাই সরকারের উচিত জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

মামুনুল হক বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দলীয়করণের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এর পরিণতিতে ভবিষ্যতে নতুন করে গণ–আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

‘জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করতে হবে’

মামুনুল হক বলেন, সরকারকে একদিকে জনজীবনের সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

তাঁর মতে, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের আরও সতর্ক ও সংবেদনশীল ভূমিকা থাকা দরকার।

বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মুফতি শরাফত হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা বক্তব্য দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স