ঢাকা

সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে হেনস্তা, ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চলন্ত বাসে ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’সহ অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ওমর ইয়াসিন। মঙ্গলবার বিকেলে সিডনির গ্রিনাকর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাঁকে ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। সিডনির স্ট্র্যাথফিল্ড স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছর বয়সী জান্না। বাসে থাকা অবস্থায় ওমর ইয়াসিনকে অন্য এক কিশোরীর ছবি গোপনে তুলতে দেখে তিনি তাঁকে সতর্ক করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি জান্নাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ।

প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীকে গালাগাল

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওমর ইয়াসিন জান্নাকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের অপমানজনক মন্তব্য করছেন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলেও গালাগাল করেন তিনি।

জান্নার উদ্দেশে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তুমি তো অভিবাসী সংকর প্রাণী, এখানে থাকার কোনো অধিকার তোমার নেই।’

এর জবাবে জান্না তাঁকে বলেন, ‘আমার জন্ম এই দেশেই।’

তবে এরপরও ওই ব্যক্তি তাঁর আচরণ বন্ধ করেননি বলে অভিযোগ। ভিডিওতে তাঁকে কিশোরীকে আরও অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে দেখা যায়।

বাসে থাকা এক নারী শিক্ষক এ সময় ওই ব্যক্তির আচরণের প্রতিবাদ করেন। পরে ওমর ইয়াসিন বাসের নজরদারি ক্যামেরার দিকে আঙুল তুলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিশেষ করে একজন কিশোরীকে প্রকাশ্যে অপমান ও গালাগালের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা বলেন, ওমর ইয়াসিনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয় দেখানো ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের পর তদন্ত করে মঙ্গলবার গ্রিনাকর এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাঁকে ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

‘ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ করব’

ঘটনার পর জান্না জানিয়েছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই তাঁকে এমন আচরণের শিকার করেছে। তবে এ কারণে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে পিছিয়ে যাবে না সে।

জান্নার ভাষ্য, একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভবিষ্যতেও সে প্রতিবাদ করবে।

কিশোরীর মা রুলা বলেন, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী উগ্র বক্তব্য বাড়ছে এবং এর সরাসরি শিকার হচ্ছেন মুসলিম নারী ও শিশুরা।

তিনি বলেন, জনসমাগমের স্থানে একটি কিশোরীর সঙ্গে এমন আচরণ শুধু ওই পরিবারের জন্য নয়, বৃহত্তর সমাজের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ নিয়ে উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ্য প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে ইসলামোফোবিয়া রেজিস্টার।

সংস্থাটির মতে, বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী আচরণ এখন শুধু অনলাইন বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; জনসমাগমের স্থানেও স্কুলপড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্করা এ ধরনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিস্তারের একটি উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে অপমানজনক বা বর্ণবাদী মন্তব্য করা হলে তার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বললেন সিনেটর

ঘটনাটির প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফাতিমা পেয়ারম্যান এটিকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তাঁর মতে, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক প্রচারণা সমাজে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তিতে ভূমিকা রাখছে।

ঘটনাটি ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় জনপরিসরে বর্ণবাদ, ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে আইন ও সামাজিক প্রতিরোধ কতটা কার্যকর করা যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স