ঢাকা

আগামী বর্ষায় ঢাকার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বর্ষা শুরুর আগেই রাজধানীর রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য উন্নয়নকাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী বছর থেকে বর্ষাকালে ঢাকার সড়কে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কার বা নির্মাণকাজ শুরুর আগে পুলিশের অনুমতি নেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকার চলমান ও পরিকল্পনাধীন মেগা প্রকল্পগুলোর কারণে সৃষ্ট যানজট এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

দুই সপ্তাহ পরপর হবে সমন্বয় সভা

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গৃহীত উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের নিয়ে এসব সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, অনেক সময় উন্নয়ন সংস্থাগুলো পুলিশের অনুমতি নেওয়ার আগেই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন কাজ শুরু করে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

এ কারণে এখন থেকে নির্মাণকাজ শুরুর আগে পুলিশের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কাজের জায়গায় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ঠিকাদারদের। কাজ শুরুর আগেই গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিষয়টি জানাতে হবে।

রাতেই হবে অধিকাংশ নির্মাণকাজ

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সপ্তাহের কর্মদিবসে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্মাণকাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্র ও শনিবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাকে প্রতি মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ যেন আলাদা আলাদাভাবে না হয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থা কোনো এলাকায় কাজ শেষ করার পর অন্য সংস্থা যেন একই জায়গায় আবার রাস্তা কাটতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বর্ষায় কাজ বন্ধ রাখার লক্ষ্য

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় ঠেকানো। বর্ষাকালে রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়ার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তাই একই এলাকায় রাস্তা খোঁড়ার পাশাপাশি ইউটিলিটি স্থানান্তর বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে সেগুলোও সমন্বিতভাবে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বর্তমানে অর্থবছর ১ জুলাই শুরু হয়ে পরের বছরের ৩০ জুন শেষ হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এর ফলে শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করা সহজ হবে এবং বর্ষায় রাস্তা কাটার প্রয়োজন কমবে।

অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। ঢাকার বিভিন্ন অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এসব চার্জিং পয়েন্ট উচ্ছেদ করতে গিয়ে অনেক সময় সমন্বিত বাধার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে দিনের বেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এর ফলে কেউ যেন হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে না পড়েন, সেটিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশার কিছু অংশ মহানগরের বাইরে নেওয়া বা বিকল্প সড়কে ব্যবহারের মতো বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে যান চলাচলে ইতিমধ্যে কিছুটা শৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং নগরবাসী এর সুবিধা পাচ্ছেন।

এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ পরিচালনার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স