ঢাকা

‘কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না’: ছাত্রদল সভাপতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো ক্যাম্পাসে আর সন্ত্রাসী ছাত্ররাজনীতি চলবে না। ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে না।

বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া উচিত নয়। কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে দখল ও আধিপত্যের রাজনীতিরও অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীকে কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করবে না। কোনো দখলের রাজনীতি, রুম দখলের রাজনীতি এই বাংলাদেশে আর কখনো হবে না।’

পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে মনোযোগের আহ্বান

নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নবীনরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সময়ের অপচয় না করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় বৈচিত্র্য আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিসিএস বা সরকারি চাকরিকে কর্মজীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বেসরকারি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাকশিল্পসহ দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা খুঁজে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক শিক্ষার সময় নয়; এ সময় দক্ষতা অর্জন, নিজেকে প্রস্তুত করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা গড়ে তোলারও সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আগের আন্দোলনের প্রসঙ্গ

ছাত্রদলের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে গত কয়েক বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করে আসছেন।

এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে দলের অনেক নেতা-কর্মী গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতির ওপর বক্তারা গুরুত্ব দেন। ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছার ভিত্তি এবং ক্যাম্পাসে দখল ও আধিপত্যের রাজনীতি বন্ধের প্রত্যয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স