ঢাকা

নৌজাহাজের সংঘর্ষ ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, কূটনীতিক তলব ভারত-পাকিস্তানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারত ও পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে দুই দেশ। গত বছরের চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে এটিই প্রকাশ্যে আসা নতুন উত্তেজনার ঘটনা।

মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে ওই সংঘর্ষ ঘটে। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই দেশ পরস্পরকে দায়ী করেছে।

বুধবার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দিল্লি ও ইসলামাবাদে পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তলবের ঘটনা ঘটে।

‘পাকিস্তানি জাহাজের অনভিপ্রেত আচরণ’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি নৌজাহাজের ‘অনভিপ্রেত ও পেশাদারিত্বহীন আচরণের’ কারণে সংঘর্ষটি ঘটেছে। এ ঘটনায় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ভারতীয় পক্ষের দাবি, উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত নজরদারি চালানোর সময় পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ দ্রুতগতিতে ভারতের যুদ্ধজাহাজের খুব কাছে চলে আসে। এ সময় দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের এই আচরণ ১৯৯১ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সামরিক মহড়া ও যুদ্ধজাহাজ চলাচলসংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’।

তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্বের চুক্তি

ভারতের দাবি, ১৯৯১ সালের দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা অনুযায়ী দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের মধ্যে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখার কথা রয়েছে।

নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের ঘটনায় পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ সেই নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেনি। ফলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ভারতীয় পক্ষ এ ঘটনাকে নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পেশাদার আচরণের ঘাটতি হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

ভারতের বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক মহড়ার’ অভিযোগ পাকিস্তানের

তবে সংঘর্ষের জন্য ভারতের নৌবাহিনীকে দায়ী করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল। ওই সময় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটি বিপজ্জনকভাবে পাকিস্তানি জাহাজের কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক মহড়া’ চালায়। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় জাহাজের ওই আচরণই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করে।

এ ঘটনায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতীয় নৌজাহাজের ‘উসকানিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়েছে।

ফলে একই ঘটনার বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারত বলছে, পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের অনভিপ্রেত আচরণ সংঘর্ষের কারণ। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় জাহাজই বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে এসেছিল।

গত বছরের সংঘাতের পর নতুন উত্তেজনা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা রয়েছে। গত বছরের চার দিনের সামরিক সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছিল।

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক তলব নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও সীমিত

ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রভাব কূটনৈতিক পর্যায়েও রয়েছে।

২০১৯ সালে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এরপর থেকে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন বর্তমানে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ এবং পরদিনই পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক তলবের ঘটনা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স