ঢাকা

দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগ, ইউজিসির নীতিমালা প্রণয়ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রস্তাবিত ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’র আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

আজ রোববার ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা জানান। ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও উপাচার্য অধ্যাপক ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকার বনানীতে একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন নীতিমালার উদ্যোগ

বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে এ বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং একটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। এখন নতুন করে ক্রস-বর্ডার উচ্চশিক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানাল ইউজিসি।

প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় কোন ধরনের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। ইউজিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নীতিমালায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অনুমোদনের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক পরিচিতি নয়, শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, অনুমোদনপ্রাপ্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের মূল ক্যাম্পাসের মতোই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে পরিচালিত শাখা ক্যাম্পাসের শিক্ষার মান যেন মূল ক্যাম্পাসের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ও বিদেশে শাখা খুলতে পারবে

শুধু বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়াই নয়, দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে কমিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়ে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী ইউজিসি।

প্রযুক্তি ও উদীয়মান বিষয়ে গুরুত্ব

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে একাডেমিক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে উচ্চশিক্ষার বিষয় ও পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার কথা জানিয়েছে ইউজিসি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ

দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বিবেচনায় যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিগগিরই পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা, গবেষণার পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে ইউজিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিসর বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচডি চালুর সুযোগ দেওয়া হলে দেশে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

স্কলারশিপ ও যৌথ গবেষণায় জোর

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। বিশ্বের মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা ও যৌথ ডিগ্রিসহ বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও যৌথ ডিগ্রি কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক একাডেমিক সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশে কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহী ইউসিএসআই

সাক্ষাতে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ঢাকার বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে।

প্রতিনিধিদল ইউজিসির সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে আগামী ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ইউজিসির নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদেশে একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এসব কার্যক্রমে শিক্ষার মান, সুশাসন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নীতিমালার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স