ঢাকা

অনিয়মের অভিযোগে ২৪৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ, আরও ১১২ নজরদারিতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
শিক্ষার্থী না থাকা এবং দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকার কারণে দেশের ২৪৬টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে ১৩৭টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের এবং ১০৯টি এইচএসসি (বিএমটি—বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান।

একই সঙ্গে আরও ১১২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টি ডিপ্লোমা এবং ২৬টি এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে টানা কয়েক বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না, সেগুলোকে আর আগের মতো অনুমোদন দিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

২৪৬ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ করে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ১৩৭টি এবং এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের ১০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতেই টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো সবই বেসরকারি।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠান থাকলেও নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি বা পাঠদান হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বহাল রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী, যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি এবং শিক্ষার মানসহ অনুমোদনের শর্ত পূরণের বিষয়ও জড়িত।

আরও ১১২ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি স্থগিতের উদ্যোগ

২৪৬টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের পর একই ধরনের আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী ধাপে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি এবং এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের ২৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বোর্ড সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থাৎ বর্তমানে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানও অনুমোদন হারানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তিন বছর ভর্তি না হলে অনুমোদন বাতিলের বিধান

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরপর তিন বছর শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ডিপ্লোমা পর্যায়ের বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতির নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল অর্জন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী, নিয়োগপ্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি এবং পাঠদানের অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করা।

এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পাঠদানের অনুমতি বাতিল করতে পারে।

ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থী না থাকা বা অনুমোদনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে না; প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের পথও খোলা রয়েছে।

ভোকেশনালেও ৬২১ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ডিপ্লোমা ও এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না অথবা কার্যত শিক্ষা কার্যক্রম নেই।

এই ৬২১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৩টিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং ১৭৮টিতে দাখিল (ভোকেশনাল) পাঠদানের অনুমোদন রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব অনেক প্রতিষ্ঠান দিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো জবাব দেয়নি। জবাব পাওয়া ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে পাঠদানের অনুমোদন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, দেশে ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪০টি। এর মধ্যে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ৬২১টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।

অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থী ছাড়াই অনুমোদন বহাল রেখেছে।

একটি প্রতিষ্ঠানে তিন বছর ধরে ভর্তি নেই

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি রংপুর সদরের মহাদেবপুর এলাকার বিসিই মোড়ের মেট্রোপলিটন প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তবে আগের বছরগুলোতে ভর্তি হওয়া কিছু শিক্ষার্থী এখনো পড়াশোনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে তাঁরা এখনো কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাননি।

এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। বোর্ডের নথিতে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থী না থাকা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা যাচাই করেই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দেশে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কত

বর্তমানে দেশে এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর ডিপ্লোমা পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় ৬০০টি।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৯৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু একদিকে কারিগরি শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী না থাকা এবং বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার বিষয়টি খাতটির বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

আসন আছে, শিক্ষার্থী নেই

কারিগরি শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থী সংকটের একটি বড় উদাহরণ পাওয়া যায় ডিপ্লোমা পর্যায়ে।

বর্তমানে চার বছর মেয়াদি ১০ ধরনের ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ৩২টি ট্রেডে এই কোর্স পরিচালিত হলেও সব প্রতিষ্ঠানে সব ট্রেড চালু নেই।

দেশে বর্তমানে ৫৬টি সরকারি ও ৬১২টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে।

তবে বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে আসনের তুলনায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সেখানে ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩০ হাজার ৬১৪ জন।

অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু ডিপ্লোমা পর্যায়েই নয়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু থাকলেও সেখানেও সব আসন পূরণ হচ্ছে না।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের কারিগরি শিক্ষায় মোট আসন রয়েছে ১৯ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। এর বিপরীতে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভর্তি হয়েছে প্রায় পৌনে ১০ লাখ শিক্ষার্থী।

এতে বোঝা যায়, কারিগরি শিক্ষার জন্য দেশে যে পরিমাণ আসন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার তুলনায় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এখনো অনেক কম।

পরিকল্পনাহীন অনুমোদনের অভিযোগ

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও চাহিদা বিশ্লেষণ ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনুমোদনের পর অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ল্যাবরেটরি, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতে পারেনি।

ফলে কোথাও প্রতিষ্ঠান থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী না পাওয়ায় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। কর্মবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়লেও শুধু প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ালেই সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। শিক্ষার মান, প্রশিক্ষণের পরিবেশ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ শিক্ষক এবং কর্মবাজারের সঙ্গে কোর্সের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁদের মতে, কোন এলাকায় কত শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী, স্থানীয় শিল্প ও কর্মবাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কতটা—এসব বিষয় বিবেচনা করেই নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন।

মানোন্নয়নের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানসংখ্যার সামঞ্জস্য জরুরি

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় নিয়ে আসা। কিন্তু একই সময়ে যদি বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী না পায়, তাহলে শুধু প্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ানোর মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্তকে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে কারিগরি শিক্ষা খাতকে পুনর্বিন্যাসের একটি অংশ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তবে এর পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলোর মানোন্নয়ন, শিক্ষক ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছে কারিগরি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে বর্তমানে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধ এবং আরও ১১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান প্রক্রিয়ার পর এ ধরনের আরও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স