ঢাকা

বোমাবাজি করে যারা, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু: রিজভী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, যারা আগুন লাগাচ্ছে ও বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সমাবেশে রিজভী এসব কথা বলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কথিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন।

বিদেশি নম্বরের অভিযোগ রিজভীর

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিকল্পিত। তিনি দাবি করেন, সংবাদপত্রে বিদেশি নম্বর থেকে এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসার কথা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ওই নম্বরটি একটি পার্শ্ববর্তী দেশের। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে এবং এর পেছনের ষড়যন্ত্র কতটা গভীর।

তবে বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে রিজভীর এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি সমাবেশে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরেননি। তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।

রিজভী বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, আগুন লাগাচ্ছে ও বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়েও কথা

সমাবেশে দেশের জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি দেশের জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের বিষয়ও আলোচনায় আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, গ্যাস সহজলভ্য হলে এবং জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আসা শুরু করলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে। তাঁর দাবি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণকে কষ্ট দিতে চায় না। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।

‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র’—এ্যানি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য’ ও ‘ফ্যাসিস্ট ভূমিকা’ তাঁরা দেখেছেন। তিনি দলটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের অভিযোগও তোলেন।

এ্যানির দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের বাইরে এবং দেশের ভেতর থেকেও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রে যুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই ও সংগ্রাম চলছে।

বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বকুলের

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকার যখন অর্থনীতি সচল করা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে, তখন একটি মহল ও দেশের ভেতরে থাকা একটি চক্র সরকারকে বিপদে ফেলা এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

বকুলের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভয়ভীতি তৈরি করে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি, ছাত্রদল ও দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। দেশের স্বার্থে তাঁরা বিভিন্ন সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

‘পুনর্বাসন ঠেকানোর’ ঘোষণা ছাত্রদল সভাপতির

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো আস্তানা রাখতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তাদেরও প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।

রাকিব বলেন, যারা ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন করতে চায়, তাঁদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল অবস্থান নেবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমঝোতা ও অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক করেন।

রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

ছাত্রদলের এই কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এ সমাবেশে পাওয়া যায়নি।

রিজভী তাঁর বক্তব্যে এসব ঘটনাকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সমাবেশের বক্তারা একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স