মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেটি জাকারাইয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলন, পেশাগত যোগ্যতা এবং নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এসব বিতর্কের মধ্যেই তাঁর বিদায়ের খবর সামনে আসে।
বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস কেটির পদ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে একই দিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পও কেটিকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান। যদিও তাঁর পদত্যাগের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন এক সময়ে কেটির বিদায়ের ঘটনা ঘটল, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা পুনরুদ্ধার করা নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রেস সেক্রেটারির মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে বিদায়কে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরছেন।
প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বিতর্ক
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কেটি জাকারাইয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত মঙ্গলবার। সংবাদ সম্মেলনটি স্থায়ী হয়েছিল ১৫ মিনিটেরও কম সময়। সাংবাদিকেরা সেখানে মাত্র তিনটি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে স্বল্প সময়ের ওই সংবাদ সম্মেলনই কেটির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বামীর কথা বলতে গিয়ে ভুল করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেন তিনি। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস ও সমালোচনা শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে তাঁর প্রস্তুতি ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের অবস্থান সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া। এ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর ধারণা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং চাপের মধ্যে স্পষ্টভাবে কথা বলার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।
কেটির প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর এসব বিষয় নিয়েই তাঁর সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক দিন তাঁকে নিজের যোগ্যতা ও প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় বিদায়ের বিষয়টি
কেটির পদ ছাড়ার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সে সময় তিনি জানান, কেটিকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম, আপনি যদি না চান, তাহলে এ কাজ করার দরকার নেই। সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আবার ভাবতাম।’
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় কেটির পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হোয়াইট হাউস তাঁর পদ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
কেটিকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমগুলো তাঁর সঙ্গে ‘বেশ খারাপ আচরণ’ করছে। অর্থাৎ, একদিকে কেটির কাজ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, অন্যদিকে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাকেও তাঁর প্রতি অন্যায্য আচরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে কেটির বিদায় নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। তবে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের পরামর্শের সরাসরি ফল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
‘অ্যাটর্নি’ পরিচয় নিয়ে বড় প্রশ্ন
কেটি জাকারাইয়াকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর বিতর্ক তৈরি হয় তাঁর আইনজীবী পরিচয় নিয়ে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। অথচ বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনিও প্রকাশ্যে একাধিকবার নিজেকে আইনজীবী বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন এবং আইনজীবী হিসেবে পেশাগতভাবে কাজ করার যোগ্যতা এক বিষয় নয়। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী হয়ে যান না; সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেটি ২০১১ সালে পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির কারুসো স্কুল অব ল থেকে স্নাতক হন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় পাস না করার বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর পেশাগত পরিচয় কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল—আইন বিষয়ে ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কেন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে অ্যাটর্নি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এ পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর পেশাগত অবস্থান কতটা স্পষ্ট ছিল।
কেটি নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, তাঁকে অ্যাটর্নি পরিচয় ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ‘অ্যাটর্নি’ পরিচয়
কেটির আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্কের আরেকটি দিক সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে। সিএনএনের পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত অন্তত ১৫টি পোস্টে তাঁকে ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এসব পোস্টের মধ্যে ফক্স নিউজের শিরোনাম এবং ওয়ান আমেরিকা নিউজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পোস্টও ছিল। কেটি নিজেও এসব পোস্ট নিজের অনুসারীদের সঙ্গে একাধিকবার শেয়ার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টগুলোর অন্তত একটি পরে মুছে ফেলা হয়েছে। সিএনএনের পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টে কেটি নিজেও একাধিকবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ কারণে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচয় এবং জনসমক্ষে নিজের অবস্থান উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।
তবে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা এবং আইনজীবী হিসেবে পেশাগত অনুমোদন থাকা যে আলাদা বিষয়, তা এ বিতর্কে বিশেষভাবে সামনে আসে। কেটির ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে এবং কী অর্থে ‘অ্যাটর্নি’ পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও নথির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তি
কেটির পদত্যাগের ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, সরকারের নীতি এবং প্রশাসনের কার্যক্রমের প্রতি ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে নির্বাচনের আগে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কর্মকর্তাদের বিতর্ক রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এ পরিস্থিতিতে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে কেটির বিদায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর ঘটনা হিসেবে তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বিদায় নিয়েছেন। “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” উগ্রপন্থীরা ক্রমেই ভেঙে পড়ছেন।’
‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিচিত স্লোগান। জেফ্রিসের মন্তব্যে কেটির বিদায়কে শুধু একজন কর্মকর্তার পদত্যাগ হিসেবে নয়, বরং ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের এ বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ। কেটির বিদায়ের ঘটনা থেকে পুরো প্রশাসনের অবস্থান বা নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা বিরোধী দলকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় নতুন সুযোগ দিয়েছে।
রিপাবলিকান রাজনীতি ও হোয়াইট হাউসে কাজের অভিজ্ঞতা
কেটি জাকারাইয়ার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে রিপাবলিকান দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রিপাবলিকান দলের জাতীয় কমিটিতে শিক্ষানবিশ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। পরে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনেও কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
২০০৬ সালে বুশ প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিকবিষয়ক দপ্তরে কাজ করেছিলেন কেটি। ফলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ ও রিপাবলিকান প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল।
২০২৬ সালের জুনে তিনি ট্রাম্পের মিডিয়া কোম্পানি এবং ট্রুথ সোশ্যালে জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর আগে একই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে (ডিএইচএস) কাজ করেছিলেন।
এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলন এবং পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিতর্কের কারণে তাঁর নিয়োগের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ক্যারোলাইন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন কেটি
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কেটি জাকারাইয়া দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্যারোলাইন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। লেভিট গত আগস্টে এ পদ ছেড়ে দেন। পরে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে যোগ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস সেক্রেটারি পদটি ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ পদের কর্মকর্তা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রশাসনের নীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ও প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করাও তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এ কারণে পদটিতে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি যোগাযোগদক্ষতা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। কেটির ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হওয়া বিতর্কগুলো এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে।
পাঁচ দিনের বিদায় কী বার্তা দিচ্ছে?
কেটি জাকারাইয়ার দ্রুত বিদায়কে ঘিরে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, হোয়াইট হাউসের মতো উচ্চপর্যায়ের পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করা এবং কঠিন প্রশ্ন সামাল দেওয়ার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, পেশাগত পরিচয় ও যোগ্যতা সম্পর্কে জনসমক্ষে দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রশাসনের একজন শীর্ষ যোগাযোগ কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলে তা দ্রুত বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বিরোধী দল এমন ঘটনাকে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় ব্যবহার করতে পারে।
তবে কেটির পদত্যাগের পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি চূড়ান্ত ভূমিকা রেখেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রথম সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা, আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক চাপ—সবকিছুই তাঁর বিদায়কে ঘিরে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু এসবের মধ্যে কোনটি সিদ্ধান্তের নির্ণায়ক কারণ ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কেটি জাকারাইয়ার বিদায় তাই শুধু একটি নিয়োগের দ্রুত সমাপ্তি নয়; এটি হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মকর্তাদের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও একটি আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।