ঢাকা

রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের অভিযোগ টিআইবির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ভারতের দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক হওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। দিপকেকে আটকের আট ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির ঘোষিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্মসূচি শুরুর আগেই দিপকেকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। একই দিনে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয় ছাত্রনেতা নেহা বোরাকে। এ ছাড়া সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নেহা বোরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে।

তবে দিপকের অবস্থান ও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে সিজেপির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আটকের আট ঘণ্টা পরও দিপকের অবস্থান জানে না দল

দিপকের অনুপস্থিতিতে সিজেপির নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা অজিঙ্কা শিন্ডে অভিযোগ করেছেন, দলটির প্রতিষ্ঠাতাকে আটকের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তাঁদের জানানো হয়নি। এমনকি দিপকের সঙ্গে আইনজীবী কিংবা দলের সদস্যদের যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

এএনআইকে অজিঙ্কা শিন্ডে বলেন, ‘দিপকেকে আটক করার আট ঘণ্টার বেশি পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো আমরা জানি না। তাঁকে আইনজীবী কিংবা আমাদের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা-ও আমরা জানতে পারিনি।’

সিজেপির অভিযোগ, দিপকেকে কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে দলকে যথাযথ তথ্য দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দিপকের বিরুদ্ধে বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তাঁকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে পুলিশ। ফলে দিপকেকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সিজেপির বক্তব্যের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি রয়ে গেছে।

‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ ঘিরে উত্তেজনা

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দিল্লিতে ফিরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। শুক্রবার বিকেলে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভারতের জাতীয় পতাকা তেরঙ্গাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত এই কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশ তাঁর বাসায় নোটিশ পাঠায়।

ওই নোটিশে দিপকেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কর্মসূচি শুরুর আগেই তাঁকে আটক করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোলবাগে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে দিপকেকে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একই সময়ে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী কনট প্লেসে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে সিজেপির ঘোষিত মার্চ কর্মসূচি ঘিরে পরিকল্পিত জমায়েত বাধাগ্রস্ত হয়।

দিপকেকে আটকের আগে কর্মসূচি বন্ধের নোটিশ দেওয়া এবং পরে তাঁকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের নোটিশের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এবং কর্মসূচি বন্ধের নির্দেশের নির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি সম্পর্কে প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

একই দিনে আটক, পরে মুক্তি নেহা বোরার

সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতার মধ্যে একই দিনে আটক হন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা। তাঁকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়েছিল।

পরে দিল্লি পুলিশ জানায়, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি আটকাবস্থা থেকে ছাড়া পেলেও দিপকের অবস্থান নিয়ে সিজেপির উদ্বেগ কাটেনি।

এর আগে গত ১০ অক্টোবরও নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার আটক হওয়ার ঘটনাটি ছাত্রসংগঠনটির নেত্রীকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে নেহা বোরার আটকের নির্দিষ্ট কারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সিজেপির আরও দুই নেতা পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে

অভিজিৎ দিপকে ও নেহা বোরার পাশাপাশি সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।

দলটির নেতাদের ধারাবাহিক আটকের ঘটনা সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়াতে পারে। বিশেষ করে দিপকের অবস্থান সম্পর্কে দলটির অভিযোগ এবং তাঁর সঙ্গে আইনজীবীদের যোগাযোগ করতে না দেওয়ার দাবি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

তবে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁদের আটকের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি কী ছিল এবং কোন কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাঁচ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার আটক দিপকে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবারের ঘটনাটি তাই কেবল একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ নয়; এর আগে তাঁকে আটকের ঘটনাও বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের কর্মসূচির আগে পুলিশ তাঁকে প্রতিবাদ আয়োজন না করার নোটিশ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে তাঁকে আটক করে বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। তাঁকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিজেপির দাবি, দিপকের অবস্থান জানানো হচ্ছে না এবং তাঁর সঙ্গে আইনজীবী বা দলের সদস্যদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আটকের আইনি প্রক্রিয়া, দিপকের বর্তমান অবস্থান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন

দিল্লির কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং জমায়েতকে কেন্দ্র করে শুক্রবারের ঘটনাগুলো ঘটেছে। একদিকে সিজেপির ঘোষিত তেরঙ্গা মার্চের আগে কর্মসূচি বন্ধের নোটিশ ও দিপকের আটক, অন্যদিকে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার আটক এবং পরে মুক্তি—সব মিলিয়ে দিনটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেহা বোরা মুক্তি পেলেও দিপকের অবস্থান সম্পর্কে সিজেপির প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা বলেছে। তবে তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে এবং দল বা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি।

দিপকের অবস্থান, তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত এবং সিজেপির অন্য নেতাদের আটকের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এলে পুরো ঘটনার চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত নেহা বোরার মুক্তির খবর নিশ্চিত হলেও অভিজিৎ দিপকেকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও সিজেপির উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স