সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা; এপস্টিনের নথি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতার ধারণা ছড়াতে চাইছে হুতিরা
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রচারযুদ্ধ জোরদার করেছে। এ প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন এবং তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি। হুতিদের প্রচারমাধ্যম ও সমর্থকেরা এসব নথির প্রসঙ্গ টেনে সৌদি নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে পবিত্র কাবার গিলাফ এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠানো হয়েছিল—এমন অভিযোগ সামনে এনে সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নথি প্রকাশ করেছে। সেগুলোকে কেন্দ্র করে হুতিরা এমন একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যেখানে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রচারের মাধ্যমে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আদর্শিক ক্ষেত্রেও রিয়াদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের মামলায় অভিযুক্ত এপস্টিন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মহলের যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের পর সেই বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে হুতিরা সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রচার আরও বিস্তৃত করেছে।
কাবার গিলাফ নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য হুতি নেতার
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করতে হুতিদের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত কাবার গিলাফ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, যাঁরা এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ দিয়েছিলেন, তাঁরাই মূলত মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। তবে এ বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য ছিল, মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া এবং তাঁদের উসকে দেওয়াই ওই হামলার উদ্দেশ্য। হুতিরা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এরপর মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের জবাবে হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়। মাহদি আল-মাশাতের বক্তব্যে এপস্টিনের সঙ্গে কাবার গিলাফের কথিত সম্পর্ককে সামনে এনে সৌদি নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা দেখা যায়। এভাবে ধর্মীয় অনুভূতি, এপস্টিনকে ঘিরে বিতর্ক এবং আঞ্চলিক সংঘাতকে একই প্রচার-বয়ানে যুক্ত করা হচ্ছে।
হুতিদের প্রচার নেটওয়ার্কের বিভিন্ন মাধ্যমে মাহদি আল-মাশাতের বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা এক ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা এ বিষয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের এক ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পীও বিষয়টি নিয়ে গান তৈরি করেছেন। ফলে অভিযোগটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়ছে।
হুতিদের ভাষণেও বারবার উঠে আসছে এপস্টিনের প্রসঙ্গ
এপস্টিনকে ঘিরে বিতর্ক হুতিদের রাজনৈতিক প্রচারে ক্রমেই বেশি জায়গা করে নিচ্ছে। হুতি নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতি বিভিন্ন ভাষণে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার প্রশংসা করে চলতি মাসে দেওয়া ভাষণেও এপস্টিনের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল নিয়ে ২০১৪ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরের ভাষণেও বিষয়টি উল্লেখ করেন হুতি নেতা।
গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক বক্তব্যে আল-হুতি বলেন, ‘এপস্টিনের ফাইলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এগুলো এমন এক জায়নবাদী আঁতুড়ঘর উন্মোচন করে, যা নেতা ও অভিজাতদের গড়ে তোলে।’
আল-হুতির এ বক্তব্যে এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথিকে কেবল যৌন অপরাধ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগাযোগের বিষয় হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা দেখা যায়। তবে এপস্টিনের নথিতে কোনো ব্যক্তির নাম বা যোগাযোগের উল্লেখ থাকলেই তিনি অপরাধে জড়িত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নথিতে থাকা তথ্যের প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট ও প্রমাণের মান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
হুতিদের প্রচারে এপস্টিনের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে সৌদি আরবের বিরোধিতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও জায়নবাদ নিয়ে প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যও এ প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে।
সুসংগঠিত প্রচারব্যবস্থার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা
ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশার মতে, হুতিদের প্রচারব্যবস্থা এখন টেলিভিশন, রেডিও, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে বিস্তৃত একটি সুসংগঠিত কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মতাদর্শিক প্রচারক ও সমর্থকদের একটি দল। তাঁরা সবাই অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন না; তবে প্রচারসামগ্রী তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
আল-বাশার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপস্টিনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে হুতিরা। একই সঙ্গে ইহুদি ও জায়নবাদীরা বিশ্ব পরিচালনা করে—এমন ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়াতেও তাঁর নাম কাজে লাগানো হচ্ছে।
এ ধরনের প্রচারের ক্ষেত্রে একটি আলোচিত ঘটনা বা ব্যক্তিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতীকে পরিণত করা হয়। এপস্টিনের অপরাধ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ ও সন্দেহ রয়েছে, হুতিরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে সমর্থন তৈরির চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
তবে এপস্টিনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের প্রকৃতি এবং তাঁর নেটওয়ার্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি একদিকে; আর কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীকে বিশ্বব্যাপী ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী করার দাবি অন্যদিকে। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের সাধারণীকরণ তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের পরিবর্তে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে উসকে দিতে পারে।
সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ শিবিরে দেখানোর চেষ্টা
লন্ডনভিত্তিক গবেষক মোস্তফা আয়াদের মতে, হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে নিজেদের সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও এপস্টিনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও রিয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের একই রাজনৈতিক শিবিরের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চায় তারা।
এ কৌশলের মাধ্যমে হুতিরা তাদের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুধু সামরিক বা ভূরাজনৈতিক অভিযোগ তুলছে না; বরং নৈতিক ও আদর্শিক বিরোধিতার একটি কাঠামোও তৈরি করছে। এপস্টিনকে ঘিরে জনমনে থাকা ক্ষোভকে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলে প্রচারটি আরও বিস্তৃত দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে পারে—এমন ধারণা তাদের কৌশলের অংশ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাও এ প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য। হুতিদের সমর্থক ও প্রচারকদের বিভিন্ন কনটেন্টে সৌদি নেতৃত্বের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হচ্ছে।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা মোস্তফা আল-মুমর সৌদি আরবের কর্মকাণ্ড ও যুবরাজের সমালোচনা করে গান, মন্তব্যধর্মী ভিডিও এবং ছোট নাটক তৈরি করেছেন। এ ধরনের কনটেন্টে রাজনৈতিক সমালোচনার সঙ্গে ব্যঙ্গ ও বিনোদনের উপাদান যুক্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাত ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিকা
সৌদি আরব ও হুতিদের বিরোধের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
বিভিন্ন পর্যায়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিমান হামলা ও অন্যান্য সহিংসতায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের বিপুলসংখ্যক মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে হুতিদের প্রচারে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নৈতিক অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে। এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট নথি ব্যবহার করে সৌদি নেতৃত্বকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা সেই বৃহত্তর প্রচারকৌশলেরই অংশ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তবে কাবার গিলাফ এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠানো হয়েছিল—এমন অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বিষয়টিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
নতুন করে সংঘাত, বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও প্রাণহানি
প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই সপ্তাহের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রায় এক হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এসব সংখ্যার নির্দিষ্ট সময়সীমা, ভৌগোলিক পরিধি এবং হতাহতের শ্রেণিবিন্যাস আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। এসব হামলায় অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা ও প্রচারযুদ্ধ—সব মিলিয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা এখন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশিত নথি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ককে কাজে লাগিয়ে হুতিরা সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য জোরালো করছে। তবে প্রচারে ব্যবহৃত অভিযোগ এবং নথিতে যাচাইযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। কারণ, রাজনৈতিক প্রচার যত বিস্তৃতই হোক, কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাইই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।